তিতাসে ৪ গ্রামের পাঁচ শতাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লার তিতাসে মজিদপুর, একলারামপুর, তেতুইয়ারামপুর ও আলীরগাঁও গ্রামের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকার পাঁচ শতাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের জেলা ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টিম এ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এসময় শত শত গ্রাহক তাদের বিল বই, ডিমান্ড নোটসহ অন্যান্য কাগজপত্র দেখালেও কর্ণপাত করেনি কর্তৃপক্ষ। এদিকে মুল সংযোগে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় হোমনা ও তিতাসের হাজার হাজার বৈধ গ্রাহক দিনভর ভোগান্তির শিকার হন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়নে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী একটি টিমের উপস্থিতিতে উপজেলার গৌরীপুর-হোমনা সড়কের কড়িকান্দি বাজার থেকে মজিদপুর, একলারামপুর, তেতুইয়ারামপুর ও আলীরগাঁও গ্রামের সরবরাহকৃত গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রাহক তাদের গ্যাস বিল পরিশোধের বিল বই, ডিমান্ড নোট ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে তাদের সংযোগ বৈধ বলে দাবি করে। উপস্থিত অনেকে বিল বই প্রদর্শন করে তারা ব্যাংকে টাকা জমা দেন বলে জানান। উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি উক্ত স্থানে দ্বিতীয় দফা অভিযান চালিয়ে এ সংযোগটি বিচিছন্ন করা হয়েছিল। এর পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রাতের অন্ধকারে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এ সংযোগটি পুনরায় দেয়। উক্ত সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রায় ৫মাস আগে প্রথম দফায় আলীরগাঁও ও সাহাবৃদ্ধি গ্রামের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।

একলারামপুর, আলীরগাঁও ও মজিদপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, তাদের কাছে চাহিদাকৃত টাকা ঠিকাদারকে সরবরাহ করা হয়েছে এবং ডিমান্ড নোটও কাটা হয়েছে। ব্যাংকে টাকা জমা হচ্ছে তারপরও লাইনগুলো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের গৌরীপুর উপ-শাখার ইনচার্জ ছগীর আহমেদ জানান, অফিসের বালামে গ্রাহকের নাম এন্ট্রি না থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। ব্যাংকে বিল পরিশোধ করা হচ্ছে কিভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি তার আওতায় না বলে এড়িয়ে যান।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।