লিটন সরকার বাদলঃ শৈশবকাল থেকেই স্বপ্ন দেখতেন পুলিশে চাকরী করবেন । সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব। শারমিন কোন দিনই ভাবেননি তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে । বাস্তবে ভিন্ন কথা অবশেষে তার স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নিল এবং তিনি একদিন নিজ থেকেই সিদ্ধান্ত নেন কোন পেশায় সাধারণ মানুষের সেবা করা যায় পরে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নেন পুলিশে চাকরী, একটি চাকুরী তার খুব প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু তাকে চাকুরী দিবে কে? চাকুরী নিতে অনেক টাকা লাগে। এরপর শারমিন জানতে পারেন কুমিল্লা পুলিশ লাইনে কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগ করা হবে। এতে কোন টাকা লাগবে না। তাই তিনি ১০৩ টাকার ব্যাংক ড্রাফট টাকার ফরম কিনে চাকুরী আবেদন করেন। গত ১ জুলাই কুমিল্লা পুলিশ লাইনে কনস্টেবল পদে চাকুরী জন্য লাইনে দাড়ায় শারমিন। প্রাথমিক বাছাই শেষে শারীরিক পরীক্ষার পর ২জুলাই লিখিত অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ও পাশ করেন রোববার রাতে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে যখন চুরান্ত ফলাফলে শারমিনের নাম ঘোষনা করা হয় । শুধু শারমিন নয় রাতে ফলাফল ঘোষণার পর চুরান্ত ফলে উত্তীর্ণ বেশিরভাগ প্রার্থীর আনন্দে চোখ ভিজে যায়। কেউ কেঁদে ফেলেন, আবার কেউ পুলিশ কর্মকর্তাদের সালামও করেন।

শারমিন কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার মহিষমারি গ্রামের সন্তান।তার পিতা মো. কামাল মিজি মাতা মিসেস নূপুর বেগম পরিবারে ১ বোন ২ ভাই শারমিনই একমাত্র বড় মেয়ে ।

শারমিন ২০১৬ সালে দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবসায় শাখা থেকে (এসএসসি ) পাশ এবং ২০১৯ সালে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কলেজ থেকে ব্যবসায় শাখা (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেন।

নিয়োগ পাওয়ার পর শারমিন বলেন, আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বাবার ব্যবসায়
কোনভাবে সংসার চলত তাই খুব প্রয়োজন ছিলো চাকুরীটির আমার। বিনা পয়সায় চাকুরী পেয়ে আমি খুবই খুশি। টাকা ছাড়া চাকুরী হবে, এটা কখনও ভাবতেও পারিনি। তাই নিয়োগ বোর্ডের সকল কর্মকর্তাকে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

শারমিনের মা নূপুর বলেন বলেন, আমার স্বপ্ন ছিলো আমার মেয়েকে পুলিশ অফিসার বানানো। সেই স্বপ্ন আল্লাহর রহমতে ও কুমিল্লা পুলিশ সুপারের আন্তরিক সহযোগিতায় তা পূরণ হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী, বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় সংসদ সদস্য, এবং উপজেলা চেয়ারম্যান এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ।

কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম পিপিএম, বিপিএম বলেন, শতভাগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কুমিল্লায় ১০৩ টাকায় কুমিল্লাতেও পুলিশে চাকরি পেলেন ৩০৭ জন । পরীক্ষার খরচ বাবদ ১০৩ টাকার ব্যাংক ড্রাফট মাধ্যমে তাদের আর কোন টাকা লাগেনি। গত ১ জুলাই ৭ হাজার নারী-পুরুষ কনস্টেবলে চাকুরী নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়ায়। প্রাথমিক বাছাই শেষে শারীরিক পরীক্ষার পর প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনিত করা হয়। ২ জুলাই লিখিত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হয়।

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চূড়ান্ত নিয়োগে ছেলেদের ১৭৩ জনের মধ্যে সাধারণ কোটায় ১১৫ জন, এতিম কোটা ২, আনসার ৩, পোষ্য ৭ ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৪৬ জন এবং মেয়েদের ১৩৪ জনের মধ্যে সাধারণ ১২৯, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩ জন, পোষ্য ও এতিম কোটায় ১ জন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ নিয়োগে চাকরি পেয়েছেন গার্মেন্টস কর্মী, দিনমজুর, সবজি বিক্রেতা, কৃষক, ভ্যান ও রিকশাচালকের সন্তানসহ ৩০৭ জন। এদিকে চাকরি পেয়ে হতদরিদ্র ওই পরিবারগুলোতে চলছে আনন্দের বন্যা। অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম নিয়োগপ্রাপ্তদের ফুল দিয়ে বরণ করার পর তাদেরকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে হাত তুলে শপথবাক্য পাঠ করান। কুমিল্লা জেলার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন,পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের এক মাস আগে ঘোষনা দিয়েছিলাম ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকুরী দিবো। সেই কথা আমরা রাখতে পেরেছি।