কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে দালা’ল চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।

রোববার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

দালাল চক্রের ওই ছয় সদস্যের মধ্যে চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. সাহিদা আক্তার।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বড় শালঘর গ্রামের মো. ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো. আবু হানিফ,পীর মহেশপুর গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে জায়ের হোসেন, মাশিকাড়া গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে বাবুল হোসেন এবং বারেরা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. মিজানুর রহমান।

বাকি দুইজনের মধ্যে আল-আমিন অসুস্থ থাকায় এক হাজার টাকা ও মো. বিল্লাল হোসেনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে, দালাল চক্রের আটকের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দালালদের প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা।

তারা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। সদরের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের পক্ষে কাজ করে দালাল চক্রটি। তারা নানা কৌশলে রোগীদের ওইসব প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। বিনিময়ে পায় মোটা অঙ্কের কমিশন। এর ফলে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগীরা জানান, দালাল চক্রের হোতারা সবসময়ই থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তারা আটক হলেও ছাড়া পেয়ে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ভুক্তভোগীরা আরো জানান, প্রতিদিন ভোর থেকেই হাসপাতালের প্রধান ফটকে, বাবুল, হাশেম, বিল্লাল, নয়ন, রোজিনা, রুবি, জরিনা, পারুল, রাকিব, জাহাঙ্গীর, আকাশ, সিয়াম, নাছির, শিপন, কবিরসহ ৩০-৪০ জন দালাল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও চিকিৎসকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে কোনো রোগী এলেই দালালরা তাদের দ্রুত ডাক্তার দেখিয়ে দেয়ার নামে নিজেদের পরিচিত কিছু অসাধু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। ওই চিকিৎসকরা অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা লিখে দেন। পরে ওইসব পরীক্ষা করানোর নামে রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আবুল কাশেম নামে একজন ভুক্তভোগী বলেন, সরকারি হাসপাতালে এলেই চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা লিখে দেন। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে তো এসব পরীক্ষা হয় না, তাই বাধ্য হয়েই রোগীদের দালালের মাধ্যমে প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে হয়।

শাহীনা বেগম নামে আরেক রোগী বলেন, দালাল না ধরলে সরকারি হাসপাতালে কোনো ডাক্তার দেখানো যায় না, দালাল ধরলেই সুবিধা পাওয়া যায়।

১০০ শয্যার সরকারি এ হাসপাতালের আশপাশে প্রায় ৩০-৩৫টি ছোট বড় প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। ফলে আশপাশের ৭-৮টি উপজেলার লোকজন চিকিৎসাসেবা নিতে এ উপজেলায় আসেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কবির আহাম্মদ বলেন, আমরা সাধারণ মানুষকে যথাযথভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে চাই। কিন্তু দালাল চক্রের সদস্যরা স্থানীয় এবং প্রভাবশালী। তারা রোগীদের প্রতারণা করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে বাইরের হাসপাতাল-ক্লিনিকে নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. সাহিদা আক্তার জানান, চারজন দালাল চক্রের সদস্যকে দুই মাসের করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বাকি দুইজনকে এক হাজার ও পাঁচ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে দালাল চক্র নির্মুলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।