কুমিল্লার দেবিদ্বারে দোকানে পাঁচ টাকা বাকি দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০টি ঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ফতেহাবাদ ইউপির ঘোষঘর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় দুই পক্ষের কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়েছেন। আহদের উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

খবর পেয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ারসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বুধবার দুপুরে দেবিদ্বার থানায় মো. সোহেল হাসান নামে এক ভুক্তভোগী ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলো, কামরুজ্জান ভূইয়া, সোহেল রানা, মো. সুমন, আরিফ, রিপন, আ. কাদির, শাহ আলম, আবদুর রশিদ, শিশু মিয়া, কামরুল, নাজমুল, জয়দল হোসেন,ফারুক, লিটন, রফিক, রাসেল, সৌরভ, মোর্শেদ, হান্নান, বাচ্চু মিয়া, সাইফুল ইসলাম, সাইদুল, মিন্টু মিয়া,জুয়েল, মজুম ভূইয়া, জহির, শাহীন, হিরণ মিয়াসহ আরো অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জন। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।

সরেজমিনে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘোষঘর মেড্ডা মার্কেটে খোরশেদ মিয়ার সঙ্গে পাঁচ টাকা বাকি না দেয়াকে কেন্দ্র করে সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কথা কাটাকাটি হয়। পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ৩য় আরেকটি পক্ষ প্রথমে খোরশেদ মিয়ার পক্ষ নিয়ে শত্রুতার জেরে স্বেচ্ছায় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করে।

পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৩য় পক্ষ ৪০-৫০জন বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ২য় দফায় হামলা করে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর করে। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার পরদিন বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৩য় দফায় আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুইপক্ষ। ৩য় দফায় সংঘর্ষে মামলার আসামিরাসহ প্রায় ১০০-১৫০ জন বাঁশ, লাঠি, রড. রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ১৫-১৬টি পরিবারের অন্তত ১৮-২০টি ঘর ভাঙচুরসহ ঘরে থাকা টিভি, ফ্রি, হাড়িপাতিলসহ মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর চালায়। এ সময় নগদ অর্থ স্বর্ণালংকারসহ লুটপাট করে নেয়া হয়।

মামলার বাদী মো. সোহেল হাসান জানান, এ হামলায় ১৮-২০ টি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় তারা। বাধা দিতে আসলে তারা নারী পুরুষসহ প্রায় ১৫-১৬ জনকে মারধর করে। তাদের হাত থেকে গোয়াল ঘরের পশুরাও রেহাই পায়নি। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে দেবিদ্বার থানা একটি মামলা করা হয়েছে।

ইউপি সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন জানান, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৮-২০টি ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার বলেন, ঘটনার পরপর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ১৮-২০ টি ঘর ও ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। সোহেল হাসান নামে এক ভুক্তভোগী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: