কুমিল্লার দেবিদ্বারে গ্রাহকদের থেকে অবৈধভাবে প্রায় এক কোটি টাকা আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে উধাও হয়েছে ইউনিটি কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস। আমানত হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শতাধিক গ্রাহক।

ভুক্তভোগী গ্রাহক ও উপজেলা সমবায় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন নেয়। যার লাইসেন্স (রেজি নং-১০৯)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয় উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মান্নান মাস্টারের ছেলে মো. মাহবুব আলমকে। এছাড়াও অন্য সদস্যদের নিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।

পিরোজপুর রফিজ উদ্দিন হাজী মার্কেটে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে দামি আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো হয় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। ওই সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রায় ১১ বছর ওই এলাকায় মাইক্রোক্রেডিট ব্যবসা করে আস্থা অর্জন করেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন মেয়াদী স্কিমের নামে গ্রাহকদের থেকে উচ্চ লাভ দেয়ার কথা বলে আমানত সংগ্রহ শুরু করে। শতাধিক গ্রাহকের থেকে প্রায় এক এক কোটি টাকা সংগ্রহের পর ২০১৯ সালের ডিসেম্বের শেষ সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে তালা দিয়ে উধাও হয়ে যান সংশ্লিষ্টরা।

ওই সমিতির সভাপতি মো. মাহবুব আলম প্রতি লাখে ১৫শ’ টাকা করে লাভ দিবেন বলে মানি রিসিট ও স্টাম্পের মাধ্যমে দেবিদ্বার উপজেলার পিরোজপুর ও হোসেনপুর গ্রামের আলী আহাম্মদ থেকে দুই লাখ, আবুল বাসার থেকে দুই লাখ, খোরশেদ আলম চার লাখ, বাবুল মিয়া চার লাখ, আবদুল আলিম দেড় লাখ, আবুল কাশেম দুই লাখ, মো. হোসেন তিন লাখ, আবুল কালাম এক লাখ, আবদুর রব এক লাখ, ফিরোজ পাঁচ লাখ, মো. কবির হোসেন সাত লাখ, জয়নাল আবেদীন সাড়ে সাত লাখ, মো. শাহীন সাড়ে নয় লাখ, মিজানুর রহমান দেড় লাখসহ আরো অনেকের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

প্রতারণার শিকার হোসেনপুর গ্রামের শাহিন, মিজানুর রহমান, ইয়াসমিন আকাতারসহ বেশ কয়েকজন গ্রাহক জানান, প্রতি লাখে মাসে দেড় হাজার টাকা মুনাফা দেয়ার কথা বলে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আমাদের থেকে টাকা নেন। তিন বছরে দ্বিগুণ লাভ দেয়ার কথা বলে প্রতিষ্ঠানটি ডিপিএস স্কিম চালু করে। অধিক মুনাফার লোভ দেখানোয় তারা আকৃষ্ট হন এবং আমানত জমা দেন।

প্রতারণার শিকার মোর্শিদা আক্তার জানান, তিনি অসুস্থ হওয়ার প্রতি মাসে অনেক টাকার ওষুধ কিনতে হয়, যার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানে চার লাখ টাকা আমানত রাখেন। যেন লাভের টাকা দিয়ে প্রতি মাসের ওষুদের খরচ চালানো যায়। ওই টাকা খোয়া যাওয়ায় এখন তার সংসারে ছেলে-মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

হোসেনপুর গ্রামের মো. কবির হোসেন অভিযোগ করে জানান, বিদেশ থেকে আমার জমানো সাত লাখ টাকা ইউনিটি কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস নামক সমবায় সমিতিতে স্ট্যাম্পের মাধ্যামে এফডিআর করি। যার বিনিময়ে প্রতি লাখে ১৫শ’ টাকা মাসে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত লাভ তো দূরের কথা আসল টাকাও পাইনি।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মো. মাহবুব আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে (০১৭১৬-১৬৮৯.., ০১৮১৯-৮১৯৭..) নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

দেবিদ্বার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, ইউনিটি কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস নামক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মাহবুব আলম গ্রাহকদের টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে সমবায় আইনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ