মো: ওমর ফারুকঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাংগড্ডা ইউপির হেসিয়ারা, নুরপুর, বেরী ও দাড়াচৌ গ্রামের ডাকাতিয়া নদীর অংশে প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৫টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন প্রভাবশালী মহল। গত এক মাস ধরে ডাকাতিয়া নদীর থেকে বালু উত্তোলন করে আশেপাশের ফসলী জমি, পুকুর-ডোবা ভরাট ও বিভিন্ন ইট ভাটায় এ বালু বিক্রি করছেন বলে জানায় স্থানীযরা। এর মধ্যে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে নদীর পাড়ের বসবাসরত মানুষের বসত বাড়ি, কবরস্থান, পুকুর ও গ্রামীন সড়ক। ওই প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না কেউ।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন চলন কলেজের প্রভাষক আ’লীগ নেতা আশিকুর রহমান, নুরপুর গ্রামের ইউনুস, স্থানীয় মেম্বার জসিম ও হাজারীপাড়া গ্রামের রবিউল। তার মধ্যে চলন কলেজের প্রভাষক আ’লীগ নেতা আশিকুর রহমান নিজেই ৪টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লা মেডিক্যালে স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

“বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ বিধি ৪ এর ‘খ’ তে বলা হয়েছে, সেতু কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাধঁ, সড়ক, মহাসড়ক, বন. রেল লাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও রেসরকারি স্থাপনা হইলে, অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটার হইলে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সীমানার মধ্যে হইলে এবং গ তে বলা হয়েছে, বালু বা মাটি উত্তোলন বা বিপণনের উদ্দেশ্যে ড্রেজিংয়ের ফলে কোনো নদীর তীর ভাঙ্গনের শিকার হইতে পারে এরুপ ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

“শাস্তির বিষয়ে বিধি ১৫ এক এ বলা হয়েছে, এই আইনের ধারা ৪ এ বর্ণিত কতিপয় ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধানসহ অন্য কোন বিধান কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অমান্য করিলে বা এই আইন বা অন্য কোনো বিধান লংঘন করিয়া অথবা বালু বা মাটি উত্তোলনের জন্য বিশেষ ভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করিলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ব্যক্তিবর্গ (এক্সকিউটিভ বডি) বা তাহাদের সহায়তাকারী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ অনূর্ধ্ব ২ (দুই ) বৎসর কারাদন্ড সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা হইতে ১০ (দশ) লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।”

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লার কামার শিল্পীদের ব্যস্ত সময়

নাম প্রকাশ না কার শর্তে নদীর পাড়ে বসবাসরত কয়েক জন জানান, ‘যে ভাবে প্রভাবশালীরা নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলছেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওই নদীর পাড়ের বাড়ি ঘর ড্রেজারের গর্তে গিয়ে নদীতে বিলিণ হওয়ার আশংকা রয়েছে। আমরা কোনো কথা ভয়ে বলতে পারছি না। প্রভাবশালীরা হুমকি ধমকি দেন।’

এ বিষয়ে চলন কলেজের প্রভাসক আ’লীগ নেতা আশিকুর রহমানের মোবাইল ফোনে জানান, আমরা দলীয় লোক। ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছি, এসব নিয়ে মাথা গামান কেন। নুরপুর গ্রামের ইউনুস বলেন, ডাকাতিয় নদীর এ অংশে আমাদের জায়গা থেকে বালু তুলতেছি। কে কি বল্লো তা জানার দরকার নাই।
এ ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার নাঙ্গলকোট উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সোহেল রানা জানান, ড্রেজার মেশিনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত রয়েছে। বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে শুনেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ