মো, ওমর ফারুকঃ
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকার মাঝে অবস্থিত উপজেলার ঢালুয়া ইউপির পুটিজলা, মন্তুলী, ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিল পাড়া নামকস্থানে ভ্রমন পিপাসুদের মাঝে আনন্দ উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। এতে ভ্রমন পিপাসুদের ঢল নেমেছে। দক্ষিণে আকাশে কালো মেঘের লুকচুরি খেলা। আবার কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি। এরই মাঝে হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসু হাজির হয়েছে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে। তারা উপভোগ করছে ঈদ আনন্দ। ঈদুল আযহার চাঁন রাতের পর থেকে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে প্রিয়জনদের সাথে অবিরাম ছুটোছুটি আর নদীর পানীর ঢেউ যেন ওইসব ভ্রমন পিপাসুদেরকে মুগ্ধ করে তুলেছে। কখনো তারা নৌকায় ভ্রমন করছে। আবার সড়কে দাড়িয়ে উপভোগ করছে আনন্দ। তবে ঈদের আগের দিন থেকে শুরু করে প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসু ছুটে আসতে শুরু করেছে। ঢালুয়া ইউপির চিল পাড়া পুরো ডাকাতিয়া নদীর পাশ জুড়ে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। আর এসব ভ্রমন পিপাসুদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সদস্যরা তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছে ভ্রমন পিপাসুরা। অন্যদিকে চিলপাড়া গ্রামের ভ্রমন পিপাসু আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন,এখানে যারা গুরতে আসে তাদের মধ্যে নারীদেরকে কিছু বখাটে ইভটিজিং করে, আমরা পুলিশ প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুটিজলা,মন্তুলী ও চিল পাড়া এখন উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবার পরিজন কিংবা কেউ পছন্দের মানুষটিকে নিয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ছুটে এসেছেন। তাদের হাতে থাকা স্মার্ট ফোনের সেলফি ও ভিডিও ক্লিপস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নৌকার মাঝিরা তাদের নৌকা ঘাটে রেখে নৌকায় ভ্রমন কারিদের জন্য অপেক্ষা করছে। এতে করে তারা একদিকে আর্থিক ভাবে উপার্জন করলেও ভ্রমন পিপাসুদের গুরাতে পেরে তারাও আনন্দিত। আর সান্ত নদী পানী দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এদিকে ভ্রমন পিপাসুদের বিশ্রামঘর নেই। আছে শুধু একটি ফুড পার্ক কাবাব এন্ড রেস্টুরেন্ট। এদিকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ওই খানে থাকায় ওই প্রতিষ্ঠানে কেনা বেচার ধুম পড়েছে। তবে এখানে যারা আসে তারা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমন করছে। আর একটি রেস্টুরেন্ট ওইটা রাত ১২ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সিলেট থেকে আসা ব্যবসায়ী মো: হাবিবুর রহমান বলেন, কখনও মেঘ আর কখনও বৃষ্টি এরই মাঝে গা ভেজানোর আনন্দই যেন আলাদা। আবার এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সব কষ্ট ঘুচিয়ে দিয়েছে আমাদের। অপর ভ্রমন পিপাসু হাসিনা আক্তার জানান, সান্ত নদীর মাঝে নৌকায় বসে ভ্রমন করতে নৌকা যখন চলে তখন পানীর ঢেউয়ের গর্জন অসাধারণ লেগেছে। নৌকার মাঝি পুটিজলা গ্রামের তাজুল ইসলাম জানান, নৌকায় যারা ভ্রমন করতে আসে তাদেরকে আনন্দ দিতে পেরে খু্শি কিন্তু দর্শনার্থীদের কোন বসার স্থান নেই। রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী অনেক গুলো দোকান পাট। ফুড পার্ক কাবাব এন্ড রেস্টুরেন্ট পার্কে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহাসিন স্বপন জানান, ভ্রমন পিপাসুদের ব্যাপক ভিড় রয়েছে। আমরাও চেষ্টা করছি তাদের বিনোদন দিতে। আব্দুর রহিম নামে এক বাদম বিক্রিতা জানান,বৈরী আবহাওয়ার কারনে ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন তেমন কোন ভ্রমন পিপাসু ছিলো না।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি মো: নজরুল ইসলাম পিপিএম জানান,পুলিশ সব সময় আইনশৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।