ছবিঃ প্রতীকী

মো. ওমর ফারুকঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা খাদ্যগুদামের কর্মকর্তারা সরকারের নির্দেশ অমান্য করে সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ধান কিনছেন। তালিকায় নাম নেই প্রকৃত কৃষকদের। নাম রয়েছে ধান ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধির। সরকারের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি ধানের মূল্য ২৬ টাকা দরে প্রকৃত কৃষকদের থেকে ধান ক্রয় না করে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে ধান ক্রয় করছেন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বি ত হচ্ছে প্রকৃত কৃষকরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সম্প্্রতি একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে গোপন মিটিং করে। প্রকৃত কৃষকদের নামের তালিকা না করে, প্রভাবশালী, ধান ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধির নামের তালিকা করে উপজেলা খাদ্য গুদামে পাঠায়। কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করছেন খাদ্য গুদাম। সম্প্রতি ওই অসাধু ব্যবসায়ী, ও সিন্ডিকেটের সাথে কৃষি কর্মকর্তারা মিটিং করেন। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা জানায়, সরকারি মূল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি ধানের মূল্য ২৬ টাকা।

কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এবার কৃষি কর্মকর্তারা যাদের নামের তালিকা তৈরী করছে তারা অনেকই ধান ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধি। তাই বাধ্য হয়ে ওইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি ধান ১৫-১৭ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এবার উপজেলায় সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ শ,৩ মেট্রিক টন। গত কয়েক দিন ধরে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, কৃষকদের কাছ থেকে ১৫-১৭ টাকা প্রতি কেজি দরে ধান ক্রয় করছেন। প্রতি কেজি ধান গুদামে বিক্রি করছি ২৬ টাকা দরে। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন ধান ব্যবসায়ী ধান বিক্রি করছেন গুদাম কর্তৃপক্ষের কাছে। এ সময় একজন কৃষককেও পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, যে তালিকা কৃষি কর্মকর্তারা দিয়েছে, তাদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করছি। এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো,জাহিদুল ইসলাম বলেন, এবার বোরো ধান ক্রয় করা হবে ৪ শ,৩ মেট্রিক টন। প্রতিজন কৃষকের কাছ থেকে ১শ ২০ কেজি থেকে এক টন পর্যন্ত ধান কিনা হচ্ছে। অনিয়মে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।পরবর্তীতে আবার কৃষকদের তালিকা করা হতে পারে।