ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার চারটি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদে আগামী ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার আদ্রা উত্তর ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন একমাত্র নারী প্রার্থী।

বিজ্ঞাপন

তবে তিনি আওয়ামী মনোনীত প্রার্থীর বাধার মুখে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছেন না বলে অভিযোগ জানিয়েছেন।

বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের ওই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুবা আক্তার বলেন, ‘গত ১২ ডিসেম্বর থেকে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী তাজুল ইসলামের সন্ত্রাসীরা বেশ কয়েকবার আমার প্রচার মাইক ভাঙচুর করেছে। কোথাও আমার প্রচার মাইক গেলে প্রচারণা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আমার কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রচারণা না চালাতে বলা হচ্ছে। গত ১৯ ডিসেম্বর আদ্রা ও মেরকট গ্রামে আমার অন্তত ১০ জন কর্মীর বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর রাতে আমার কর্মী মেরকট বাজারের ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিনের দোকানে ভাঙচুর-লুটপাট চালানো হয়েছে। ইউনিয়নের বেশির ভাগ স্থানে নির্বাচনী পোস্টার লাগাতে গেলে আমার কর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। আবার কয়েকটি গ্রামে পোস্টার লাগালে তা ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। ’

মাহবুবা আক্তার আরো অভিযোগ করেন, ‘প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের কারণে আমি এবং আমার কর্মীরা প্রচারণা চালাতে পারছি না।

পুরো ইউনিয়নে বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে ভরে রেখেছেন তিনি (নৌকার প্রার্থী)। এসব সন্ত্রাসীকে দিয়ে কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দু-একটি বাদে ইউনিয়নের প্রায় সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। আর এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে একাধিবার অভিযোগ করা হলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। ’

তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী এসব মনগড়া কথা বলে রিউমার ছড়াচ্ছেন। তিনি ভাবছেন এসব অভিযোগ করলে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের সহানুভূতি পাবেন। আমি ও আমার কোনো কর্মী তার কর্মীদের ওপর হামলা চালানো বা ভয় দেখাইনি। এ ছাড়া আমি কোনো বহিরাগত সন্ত্রাসী এলাকায় আনিনি। ’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, ‘আদ্রা উত্তর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে কোনো অভিযোগ পাইনি। এ ধরনের অভিযোগ সঠিক হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠে আমাদের লোকজন এ নিয়ে কাজ করছে। ’

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: