ডেইলিকুমিল্লানিউজ ডেস্কঃ কুমিল্লা উত্তরের ৭টি উপজেলার মধ্যে অন্যতম প্রধান উপজেলা হচ্ছে চান্দিনা উপজেলা। সাংগঠনিক ভাবে বিভক্ত কুমিল্লা উত্তর জেলার প্রায় সব কটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কার্যালয়ও এই চান্দিনাতেই অবস্থিত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা উত্তরের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চান্দিনা উপজেলায় এখন আওয়ামীলীগের প্রতিদ্ধন্ধি আওয়ামীলীগ। এক দিকে সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও বর্তমান এমপি অধ্যাপক আলী আশ্রাফ আর অপর দিকে রয়েছেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. প্রাণ গোপাল। এই দুই নেতার নেতৃত্বে পুরো চান্দিনা উপজেলা এখন দ্বিধা বিভক্ত। আর এই বিভক্তির আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়া হয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে আলাপাচারিতায় ডা. প্রাণ গোপালের আগামী নির্বাচনে চান্দিনা থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দেওয়ার মধ্যে দিয়ে।
এতে চান্দিনায় আওয়ামী লীগের হাতে আওয়ামী লীগ মার খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও আওয়ামী লীগ নেতা ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তিনি বলেন,চান্দিনায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ মামলা দিচ্ছে,আর অন্যরা হাত তালি দিচ্ছে। দায়িত্ব পেলে তিনি চান্দিনায় দলীয় কোন্দল নিরসন করতে পারবেন বলেও জানান।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত আরো বলেন, চান্দিনার এমপিরা কখনো সরকারের প্রিয় হতে পারছে না, এজন্য চান্দিনা পিছিয়ে পড়ছে। তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে চান। তাই আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর নিকট দলের মনোনয়ন চাইবেন। তিনি আরো বলেন,১৯৭০সাল থেকে চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন ভাবে চান্দিনা প্রতিটি পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে। তিনি চান্দিনায় নির্বাচিত হলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করবেন বলেও জানান।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৭ চান্দিনা থেকে নিজের অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. প্রাণ গোপাল বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনেও আমি মনোনয়ন পত্র নিব কিনা নেত্রীর কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম। তখন নেত্রী বলেছে, দরকার নেই। তাই নির্বাচন করিনি। পরে আপনারা দেখেছেন আমাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইবার উপাচার্য করা হয়েছে। এবার আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। সেভাবে কাজও করছি। দলীয় হাইকমান্ডের গ্রীন সিগন্যাল পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ডা. প্রাণ গোপাল বলেন, না। এখনো এ বিষয়ে আমি নেত্রীর সাথে কথা বলিনি।
চারবারের এমপি ও সাবেক ডেপুটি স্পীকার অধ্যাপক আলী আশ্রাফকে রেখে কেন আপনাকে মনোনয়ন দেবে জানতে চাইলে দেশের প্রথিতযশা এই চিকিৎসক বলেন, আপনারা জানেন, তিনি কিন্তু সরকারের গুডবুকে নেই। যদি থাকতেন তাহলে কিন্তু সাবেক ডেপুটি স্পীকার থেকে আরো অনেক দূর যেতে পারতেন। তিনি দু:খ করে বলেন, সারা দেশে উন্নয়ন হলেও চান্দিনায় কোন উন্নয়ন নেই। চান্দিনায় আওয়ামী লীগের হাতে আওয়ামীলীগ মার খাচ্ছে। নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, হামলা মামলা খেয়ে হয়রানি হচ্ছে। গত ইউপি নির্বাচনে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে যেখানে অন্যদের চেয়ারম্যান মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল সেখানে তারা ফেল করেছে। চান্দিনায় মাদকের আগ্রাসন বেড়ে গেছে। শিক্ষায় দিক্ষায় পিছিয়ে পড়া চান্দিনাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি এমপি হতে চান বলে সাংবাদিকদের জানান।
তিনি বলেন,তার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। দেশের ২৬৯জন স্বাধীনতা পদক পেয়েছে। কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকেও এ পদক দেয়া হয়। তিনি বলেন,এখন শিক্ষা ও চিকিৎসায় বাণিজ্য ঢুকে গেছে। ৭৩সালের কুমিল্লার ১৩জন সচিব ছিলো,এখন তা তলানিতে।
মাদকের বিষয়ে বলেন,ত্রিপুরা সব মাদক চান্দিনা দিয়ে যায়। এমপি ও থানা চাইলে ইয়াবা,বাবা সব বন্ধ হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও কুমিল্লা চান্দিনা থেকে নির্বাচিত আওয়ামীলীগ দলীয় এমপি অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, কুমিল্লায় বসে তিনি যে সকল কথা বলেছেন সব গুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাকে বলেন, এ কথাগুলো চান্দিনায় এসে বলতে। তিনি ফ্রিডম পার্টির লোক, জামায়াতপন্থী। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি ফ্রিডম পার্টিকে ভোট দিয়েছেন।
এমপি আলী আশ্রাফ আরো বলেন, আপনারা চান্দিনায় এসে দেখে যান, কুমিল্লার ১৬ উপজেলায় যত উন্নয়ন হয়েছে তার চেয়ে বেশী উন্নয়ন হয়েছে চান্দিনায়। আপনারা ডিসি, এসপি, চান্দিনার ইউএনও এবং ওসিকে জিজ্ঞেস করুন, চান্দিনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা দেওয়া হয়েছে কি না কিংবা তারা দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে কোন মার খেয়েছে কিনা। ডা. প্রাণ গোপাল জামায়াতের অনুসারী। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সূত্রঃ আমাদের কুমিল্লা

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: