ডেস্ক রিপোর্টঃ বর্তমান সরকারের নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে বদলে যাচ্ছে দেশ। এর মধ্যে বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু, রাজধানীর বুকে স্বপ্নের মেট্রোরেল-উড়াল সড়ক, চারলেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, রাজধানীর ধোলাইপাড় থেকে পদ্মা সেতু লিঙ্ক পর্যন্ত দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ের বাস্তবায়ন দৃশ্য অন্যতম।

পাশাপাশি দেশের আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতেও থেমে নেই সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বদলে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক— কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক।

যে সড়ক ব্যবহার করে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ, কচুয়া, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, হাইমচর, দক্ষিণ কুমিল্লার সদর দক্ষিণ, লালমাই, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী, হাতিয়া, সেনবাগ, সুবর্ণচর, বেগমগঞ্জ, চাটখিল, কবিরহাট, নোয়াখালী সদর, লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর, রামগঞ্জ, রামগতি এলাকায় যাতায়াত করে লাখ লাখ মানুষ।

বিগত ২০১৬ সালেও যে সড়ক সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দাদের অভিযোগের অন্ত ছিল না সেই মহাসড়ককেই সরকারের উন্নয়ন থাবার আওতায় নিয়ে আসায় এখন স্বস্তি প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্টরা।

এ সড়ক ব্যবহারকারী বৃহত্তর নোয়াখালী ও আংশিক ব্যবহারকারী চাঁদপুর অঞ্চলের বাসিন্দারা যাতায়াত করেন কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে।উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনার আগে এ মহাসড়ক সরু থাকায় প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো অংশে দুর্ঘটনার

খবর পাওয়া যেত। সংশ্লিষ্ট সড়ক ব্যবহারকারী বর্তমান সরকারের দু-চারজন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের একান্ত প্রচেষ্টায় সরকারের একনেক সভায় মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত করে দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বরাদ্দকৃত অর্থের ভিত্তিতে ২০১৭-১৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর চারলেনে উন্নীত করার কাজও উদ্বোধন করেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল (এফসিএ)। ২০২০ সালের জুন মাসে চারলেনে উন্নীত করার বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরুর সময়ও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে অনেকটাই। পাশাপাশি বাস্তবায়ন কাজও দৃশ্যমান হয়েছে অনেকাংশেই।

কুমিল্লার পদুয়ার বিশ্বরোড থেকে লালমাই হয়ে লাকসাম পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঠিকাদারিপ্রতিষ্ঠান মেসার্স তাহের ব্রাদার্স, রানা বিল্ডার্স ও হাছান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেডের সড়ক নির্মাণকর্মীরা রাতদিন যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কুমিল্লা শহরের টমছম ব্রিজ থেকে শুরু করে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়ক চারলেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে সড়কের দুপাশে মাটি ভরাট কাজের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া কাজের অনেকটাই শেষ হয়েছে পিচ ঢালাইয়ের মাধ্যমে।

সড়ক ও জনপথ অফিস সূত্র জানায়, ২০২০ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী জেলার লাখ লাখ যাত্রী সড়কপথে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা হয়ে লাকসাম ও কুমিল্লা হয়ে ঢাকাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে যাতায়াত করেন। যে কারণে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন বেগমগঞ্জ-লাকসাম-কুমিল্লা সড়কে চলাচল করায় এ সড়কের গুরুত্ব বহুলাংশে বেড়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে কুমিল্লার টমছম ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক বর্ধিত না হওয়ায় প্রতিনিয়ত যানজট ও দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। নোয়াখালীর সোনাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে কুমিল্লার টমছম ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি চারলেনে উন্নীত হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আঞ্চলিক এ মহাসড়ক।

সড়ক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত হলে দুর্ঘটনার প্রবণতাও কমে আসবে অনেকটাই।

কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজিম উদ্দিন বলেন, সোনাপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কটি চারলেন উন্নীত হলে মাত্র ৩ ঘণ্টায় রাজধানীতে যাতায়াত সম্ভব হবে। আশা করছি, নির্দিষ্ট মেয়াদে চারলেন সড়কের কাজ সম্পন্ন হবে। কাজ সম্পন্ন হলে সড়কটি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ওই প্রকল্পের জন্য কুমিল্লা (টমছম ব্রিজ) নোয়াখালী (বেগমগঞ্জ) আঞ্চলিক মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য ২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা অনুমোদন দেয়া হয়।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এমপি একরামুল করিম চৌধুরী জানান, বেগমগঞ্জ-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সোনাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে কুমিল্লার টমছম ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি চারলেনে উন্নীত হলে এতদ্বাঞ্চলের অধিবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। এ দুটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়ায় বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।

এছাড়াও এ মহাসড়ক সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জানান।