পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাট কাঠি থেকে পাট ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পাটচাষিরা। নতুন পাট বাজারে বিক্রি করে পরিশ্রমের ফল ঘরে তোলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। গত বছরের তুলনায় এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় দ্বিগুনেরও বেশি হেক্টর জমিতে সোনালী আঁশ পাটের চাষ হয়েছে। এবার উৎপাদনও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম অ লে ঘুরো কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত অর্থ বছরে ঘোষিত বাজেটে সরকারিভাবে পাটের দাম বৃদ্ধি করায় এ অ লের কৃষকরা আবারো পাট চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলার দুলালপুর গ্রামের কৃষক জানু মিয়া বলেন, গত বছর তিনি ১৫ শতক জমিতে পাটচাষ করে ভাল দাম পেয়েছেন। এ কারণে এ বছর তিনি ৩০ সতক জমিতে পাটচাষ করেছেন। একই গ্রামের কৃষক শানু মিয়া ও ফজলুর রহমান জানান, এক সময় তারা পাট চাষের উপরই নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু বিগত কয়েক বছর পূর্বে হঠাৎ করে পাটের দাম কমে যাওয়ায় তারা পাট চাষের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু গত বছর পাটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবছর তাদের অধিকাংশ জমিতে পাটচাষ করেছেন বলে তারা এ এই প্রতিনিধিকে জানান।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মাহাবুবুল হাসান জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাটচাষে আর্থিক খরচ ও শ্রম দু’টোই কম লাগে। তাছাড়া পাট অধিক লাভজনক একটি ফসল হওয়ায় এবং গত বছর চাষীরা পাটের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় এ অ লের কৃষকেরা এবার পাটচাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। তিনি আরো জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় কৃষকেরা সঠিক সময়ে জমিতে বীজ বপন করার সুযোগ পেয়েছে। এ বছর এই উপজেলায় গতবছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি জমিতে পাটচাষ হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হলে সরকারিভাবে পাটের দাম নির্ধারণ করতে হবে। তাহলে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবে এবং আগামীতেও পাট চাষে তাদের আগ্রহ আরও বারবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: