মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতাঃ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেস কাটতে না কাটতেই মুরাদনগর উপজেলার দুই থানায় বইতে শুরু করেছে স্থানীয় সরকারের উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। মাঠেঘাটে, চায়ের দোকানে সর্বত্রই উপজেলা নির্বাচনের আলাপ-আলোচনা। এখনও মুরাদনগর উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা না হলেও আগামী মার্চ মাসের শুরুর দিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তফসিল ঘোষণা করে কয়েক ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার ঘোষণা দেওয়ার পরই শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তোরজোর শুরু করে দিয়েছেন। এবারই প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যেই স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের কাছে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু নিষ্ক্রিয় রয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। এ বছর মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ পর্যন্ত বিএনপি নিষ্ক্রিয় থাকলেও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের তিনজন প্রার্থীকেই নিয়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ। আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা রাস্তার মোড়, বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনসমূহে ডিজিটাল ব্যানারে আকর্ষণীয় শ্লোগান, নানা উপদেশ বাণী সম্বলিত পোস্টার ও শোডাউনের মাধ্যমে প্রার্থী হওয়ার কথা জানান দিচ্ছেন। এখনও মুরাদনগর উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা না হলেও চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। অন্য কোনো প্রতিশ্রুতি না দিলেও চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এলাকাবাসীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

মুরাদনগর থানার ১২টি ইউনিয়ন ও বাঙ্গরা বাজার থানার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মুরাদনগর উপজেলা। এ উপজেলায় মোট ভোটার তিন লাখ ৮২ হাজার ৬৬৯। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৯২ হাজার ৯৫১ ও মহিলা এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৮ ভোটার।

এবারের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে যে তিনজন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন তারা হলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ওয়ালী আহম্মেদের ছেলে ম. রুহুল আমিন, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুল কাইয়ুম খসরু, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের ছেলে আহসানুল আলম সরকার কিশোর। তারা সকলেই হেবিওয়েট প্রার্থী হওয়ায় তাদের মধ্যে কে পাবেন দলীয় প্রতিক নৌকা তা নিয়ে কোন প্রকার মন্তব্য করতে নারাজ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। সেখানেও রয়েছেন হেবিওয়েট তিন প্রার্থীর নাম তারা হলেন, কুমিল্লা জেলা আইনজিবী সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শ্রীকাইল ডিগ্রী কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ তমাল, কুমিল্লা উত্তর জেলা শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি ও কোম্পানীগঞ্জ বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, উপজেলা শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান হেলাল।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে যদিও দুই জনের নাম শুনা গেলেও ভোটের মাঠে এগিয়ে রয়েছেন পর পর দুই বারের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সানোয়ারা বেগম লূনা। অপর জন ভোটের মাঠে বেগম কুলসুম হাসান মিতু একেবারেই নতুন মুখ।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: