কুমিল্লার লাকসামে এক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতির দায়ের করা মামলায় একই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও ইউপি সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আজ রবিবার কুমিল্লার আদালতে পাঠিয়েছে। আগের দিন বিকেলে উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের মামিশ্বর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

লাকসাম থানা পুলিশ ও এলাকবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের রামারবাগ গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি রাসেল আহমেদ রাসেদ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। ওই ঘটনায় উভয়পক্ষ থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, ছাত্রলীগ সভাপতি রাসেল আহমেদ রাশেদ তাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২৯ মে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই মামলার প্রধান আসামি হিসেবে মো. আনোয়ার হোসেন মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে।

অপরদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক ব্যক্তি ছাত্রলীগের সভাপতি (বহিস্কৃত) রাসেল আহমেদ রাশেদসহ এলাকার সব সন্ত্রাসী বাহিনীদেরও গ্রেপ্তারসহ অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত রমজানের প্রথম দিকে (২৮ এপ্রিল) ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি রাশেদসহ তার লোকজন সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে মসজিদে স্বল্প সংখ্যক মুসল্লীর জামাতে নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে তিনি তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই এলাকার কতিপয় নিরীহ মানুষদের ওপর হামলা চালান। এতে কমপক্ষে ১০-১২ জন আহত হন। ওই ঘটনার দিন লাকসাম থানা পুলিশ রাশেদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ঘটনার মীমাংসার কথা বলে মুচলেকা দিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনে।

এলাকাবাসীরা আরো জানান, রাজনীতির নামে রাসেল এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ওই দুই নেতা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। কথায় কথায় অস্ত্রের ঝনঝনানি। তাদের অত্যাচার নির্যাতন থেকে সাধারণ মানুষ নিষ্কৃতি পেতে চায়।

দলীয় সূত্র জানায়, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন এবং ছাত্রলীগ সভাপতি রাসেল আহমেদ রাশেদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে গত ২৯ মে লাকসাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং উপজেলা ছাত্রলীগ জরুরি সভা আহবান করেন। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক পদ থেকে দুইজনকেই অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এই ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন মো. আনোয়ার হোসেন মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে পুলিশ অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। ওই ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারেও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ কালেরকণ্ঠ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: