আশিকুর রহমানঃ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় গত মওসুমের তুলনায় এবছর সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য ফসলের তুলনায় খরচ কম এবং লাভজনক হওয়ায় সরিষা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। গত বছরের বোরো ধান এবং আমন ধান অনেক কৃষকের ঘরে মজুদ থাকায় বিকল্প ফসল হিসেবে সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, চলতি ২০১৯-২০ রবি মওসুমে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ১২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আর এবছর সরিষা চাষ হয়েছে ১৫৫ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টন সরিষা। গত মওসুমের তুলনায় ১০৩ হেক্টর জমিতে সরিষা বেশি চাষ হয়েছে।

উপজেলার মাধবপুর কলেজপাড়া এলাকার কৃষক আলফু মিয়া, নজির আহাম্মেদ, রামনগর এলাকার তোফাজ্জল, আবুল কাশেম সহ একাধিক কৃষক জানান, ইদানীং ধানচাষ করে লোকসানে পড়ার কারণে তারা আগাম জাতের সরিষা চাষ করেছে। এ ছাড়াও সরিষা উৎপাদনে সার কম প্রয়োগ করতে হয় এবং সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না। খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল চাষ হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুবুল হাসান জানান, গত ২০১৮-১৯ মওসুমে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় সরিষ চাষ কম হয়েছিল। তাবে বাম্পার ফল হওয়ায় কৃষকরা উৎসাহিত হয়ে এ বছর সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর সরিষ চাষ তিনগুণ বেশি হয়েছে। এবারো আবহাওয়া অনুকূল থাকলে সরিষার বাম্পার ফলন হবে। তিনি আরো জানান, চলিত মওসুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় থেকে উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা চাষ করার জন্য ১৬ জন কৃষকের মাঝে সরিষা প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ফলোআপ হিসেবে ১৫০ জন কৃষকের মাঝে বারি সরিষা-১৪ এবং বিনা সরিষা-৯ সরিষা বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। আবার অনেক কৃষকরা নিজ উদ্যোগে টরি-৭ সরিষা চাষ করেছে।