সিনেমা হলশূন্য কুমিল্লা, একমাত্র হলটিও বন্ধের পথে

মহিউদ্দিন মোল্লাঃ শিক্ষা-সংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত কুমিল্লা নগরীর একমাত্র সিনেমা হলটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। নগরীর চকবাজারে অবস্থিত রূপালী হলটি লোকসানের কারণে কিছুদিনের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে। সম্প্রতি হলটিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণি মিলিয়ে সেখানে ৩৬ জন দর্শক রয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাকি নয়টি হলও এখন ধুঁকে ধুঁকে চলছে।

সিনেমার প্রবীণ দর্শকরা জানান, পঞ্চাশের দশকে কুমিল্লায় প্রথম সিনেমা হল নির্মিত হয়। ষাট এবং সত্তরের দশক ছিল সিনেমা হলের রমরমা সময়। বিত্তবান লোকজন পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে আসতেন। আশির দশকে ভিসিআর আসার পর হলে মানুষের ভিড় কমতে থাকে। পাঁচ বছর আগেও কুমিল্লা নগরীতে অর্ধডজন সিনেমা হল ছিল। তা বন্ধ হতে হতে একটিতে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ বন্ধ হয় নগরীর ছাতিপট্টির মধুমিতা হল।

এর আগে বন্ধ হয় কান্দিরপাড়ের দীপিকা ও দিপালী হল। দীর্ঘদিন আগে বন্ধ হয় লিবার্টি ও রূপকথা হল। অনেক হল মালিক আধুনিক সিনেপ্লেক্স নির্মাণের কথা বলে হল ভেঙে ফেললেও তারা সে প্রতিশ্রুতি রাখেননি।

এদিকে কুমিল্লার ১৭টি উপজেলার মধ্যে সদর দক্ষিণ, লালমাই, বরুড়া, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, তিতাস ও মেঘনায় কোনো সিনেমা হল নেই। ব্রাহ্মণপাড়ার রূপসী, বুড়িচংয়ের ছবিঘর, চৌদ্দগ্রামের পুলক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। পুলক সিনেমা হল এখন ভাঙারি পণ্যের গোডাউন। অন্য হলগুলো এখন শপিং কমপ্লেক্স। ধুঁকে ধুঁকে চলছে লাকসামের পলাশ, পড়শী, চান্দিনার পালকী, দাউদকান্দির গোমতী, ঝুমকা, হোমনার মুন, মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ বাজারের পূর্ণিমা, ময়নামতির গ্যারিসন ও বুড়িচং কংশনগর বাজারের স্টার ভিউ। বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হলগুলোর শত শত কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে নির্মল বিনোদন থেকে। নগরীর রূপালী হলে একটি দুপুরের শোতে গিয়ে দেখা যায়, সুপার স্টার শাকিব খানের সিনেমা ‘ভালোবেসে মরতে পারি’ চলছে। এ সময় হলে ৩৬ জন দর্শক ছিল। তাদের জন্য চলছে ৪০টি ফ্যান। হল কর্তৃপক্ষের দাবি- রাতের শোতে মাঝে মাঝে দর্শকই থাকে না। কখনো ৪-৫ জন নিয়ে শো চালাতে হয়।

৩৭ বছর ধরে রূপালী হলের ম্যানেজার শ্যামল সাহা। তিনি বলেন, সিনেমা শিল্প এখন ধ্বংসের পথে। সর্বশেষ ভালো ব্যবসা হয়েছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিটিতে। প্রশাসন নজরদারি করায় সেটি পাইরেসি হয়নি। এখন পাইরেসির কারণে হলের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই হলটিও লোকসানে আছে। মালিকপক্ষ এখানে মার্কেট নির্মাণ করতে পারে। সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-সংস্কৃতির জন্য সুখকর বিষয় নয়। শুধু পাইরেসি নয়, ব্যবসা খারাপের জন্য হল মালিকরাও দায়ী। হল আধুনিকায়ন না হলে দর্শক ধরে রাখা যাবে না। সিনেপ্লেক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিনেমা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন