নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সম্প্রতি পুরুষ নির্যাতনের কয়েকটি ঘটনা ভাইরাল হলেও থেমে নেই পুরুষ নির্যাতন। কথায় কথায় ডিভোর্স ও নারী নির্যাতনের মামলার হুমকি যেন বেড়েই চলছে। চট্টগ্রামের ডাঃ আকাশের আত্মহত্যার পর প্রকাশিত হয় যে মোটা অংকের কাবিন চট্টগ্রামের বিয়ের রেওয়াজ হয়ে দাড়িয়েছে। অতিরিক্ত কাবিনের কারণে স্ত্রীর অতিরিক্ত বাড়াবাড়িও স্বামীকে নিরবে সহ্য করতে হয়। অনেক স্থানে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও ইদানীং পুরুষ নির্যাতনের ঘটনাও শোনা যাচ্ছে।

তেমনি ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার সদর দক্ষিন উপজেলার যশপুর গ্রামের আঃলতিফ মজুমদারের ছেলে মিজানুর রহমান এর সাথে।

চট্রগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুড় ফাড়ি সংলগ্ন ইসলামপুর গ্রামের মাওঃ আব্দুর রশিদের মেয়ে তানজিনার সাথে ২০১৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মিজান ।

ঘটনার বিবরণে জানাযায়, তাদের প্রায় দুই বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। কিন্তু তানজিনা মিজানের সংসার করলেও বিয়ের পূর্বে সম্পর্ক থাকা রুবেলের সাথে সম্পর্ক চালিয়ে যায়।

এ বিষয় নিয়ে মিজানের সাথে কয়েকবার বাকবিতন্ডা হলে পারিবারিকভাবে সালিশের মাধ্যমে এর সমাধান করা হয়।

তারপরও এর কিছুদিন না যেতেই আবার তানজিনা পরকিয়ায় লিপ্ত হয়ে যায়। পূর্বের প্রেমিক তানজিনার মায়ের নিকট আত্নীয় হওয়ায়, মেয়েকে সমর্থন দেন তার মা।

তানজিনার সন্তানের জন্মের পূর্ব থেকেই তানজিনার মা (মিজানের শাশুরী) মেয়েকে সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেয়। স্বামী মিজানের সতর্কতায় তা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

অন্যদিকে তানজিনা তার মায়ের কুমন্ত্রনায় শশুর বাড়িতে স্বামী ও শাশুড়ি’র সাথে দুর্ব্যবহার করতে থাকে এবং মিজানের সংসার করবে না বলে হুমকি দেয়।

এরই মাঝে তানজিনার বাবার কর্মরত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দীন এসে সালিশ করে মেয়েকে আরো পরকিয়া করবে না এবং সবার সাথে মিলে মিশে চলবে মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান।

কিন্তু কিছু দিন পরই আবার তানজিনা মিজান ও তার মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে এবং আত্মহত্যা করে মিজানকে ফাসিয়ে যাবে বলে হুমকি দেয়।

মিজান সরকারী চাকুরীজীবি এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের হওয়ায়, সন্তান ও সম্মানের কথা চিন্তা করে তানজিনার সব দূর্ব্যবহার সহ্য করেও দাম্পত্য জিবন চালিয়ে নিতে চাইতেন। কিন্তু তানজিনার মায়ের কারণে তা আর হয়ে উঠেনি।

গত বছর ২৬ নভেম্বর হঠাৎ করেই মিজানের বাড়িতে পুলিশ নিয়ে আসে তানজিনার মা। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পরে মিজানের পরিবার।

তানজিনাকে তার পরিবার স্বামীর বাড়ী থেকে নিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করবে জানিয়ে পুলিশও চলে যায়।

এ ঘটনার পরদিন ২৭ নভেম্বর নারী নির্যাতনের অভিযোগ এনে একটি সদর দক্ষিণ থানায় মামলা দায়ের করে তানজিনার মা।

পরবর্তীতে যৌতুক বিরোধী সহ কয়েকটি মামলা করে তানজিনার পরিবার।

তানজিনার স্বামী ভুক্তভোগী মিজান অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় দেখানো স্ট্যাম্পের স্বাক্ষরের সাথে আমার স্বাক্ষরের মিল নেই।

মিজানের মা অভিযোগ করে বলেন, তারা পুলিশ বাড়িতে আনার পূর্বে তানজিনার সাথে তার বাবার কথা হয়।

মোবাইলের রেকর্ড অপশন চালু থাকায় আমরা কলরেকডিং এ শুনি তানজিনার বাবা তাকে বলেন, মা ( তানজিনার মা) যা বলে তাই শুনতে এবং তাকে নির্যাতন করা হয় মর্মে পুলিশকে অভিযোগ করার জন্য ।

মিজানের পরিবারের অভিযোগ করে আরো বলেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উকিলের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের জন্য বসতে বললেও তারা সাড়া দেয়নি।

বরং মিজান কে ইয়াবা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেবে বলে হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় আমার স্বাভাবিক জীবন হুমকির মুখে বলে অভিযোগ করেন মিজান।

এদিকে তানজিনার বাবাকে ফোন করে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কল কেটে ফোনটি বন্ধ করে দেন। তানজিনার মাকে ফোন করা হলে তিনি জানান, আমরা মামলা করেছি, আদালতেই বুঝা পড়া হবে।
ঘটনা প্রেক্ষিতে জানা যায়,
তানজিনার বড় বোন সাথীর বিয়ে হলেও মায়ের কারণেই সংসার করা সম্ভব হয়ে উঠেনি সাথীরও।