করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পরামর্শক্রমে হোমনা-মুরাদনগর সড়ক লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৩১ জনসহ মোট ৬৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোমনা উপজেলা প্রশাসন। এই দুই উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক থাকায় হোমনা উপজেলায় অতি দ্রুত সংক্রমণের আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

হোমনা-মুরাদনগর উপজেলার মধ্যবর্তী রঘুনাথপুরে তিতাস সেতুর পশ্চিম প্রান্তে হোমনা অংশে বাঁশ ও গাছের গুড়ি দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে এই লকডাউন কার্যকর করেন ইউএনও তাপ্তি চাকমা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওসি আবুল কায়েস আকন্দ ও ভাষানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধি ও যানবাহন ব্যতীত দুই উপজেলার জনগণসহ ছোট-বড় সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হোমনা ও মেঘনা উপজেলার মধ্যে আন্তঃ উপজেলা জনসাধারণ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে চেক পোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। তা বাস্তবায়নে সরাসরি তদারকি করছেন এএসপি মো. ফজলুল করিম।

ইউএনও তাপ্তি চাকমা বলেন, মুরাদনগর উপজেলায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৩১ জনসহ মোট ৬৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মুরাদনগরের সঙ্গে হোমনার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নিবিড়। যে কোনো মুহূর্তে এর সংক্রমণ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সবাইকে সুস্থ ও নিরাপদে থাকার আহবান জানান তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুছ ছালাম সিকদার জানান, হোমনা থেকে এ পর্যন্ত ১৮১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ১৫৪টির। এর মধ্যে চারজন করোনা পজিটিভ। প্রথম আক্রান্ত নারী সম্পূর্ণ সুস্থ। একজনকে ঢাকায় রেফার করা করা হয়েছে এবং দুইজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এদের শরীরেও এখন কোনো উপসর্গ নেই। পুনরায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

এএসপি মো. ফজলুল করিম বলেন, করোনাভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করেছে। কুমিল্লা বিভিন্ন উপজেলা আক্রান্ত হচ্ছে দ্রুত। করোনা মোকাবিলায় হোমনা ও মেঘনা উপজেলায় আন্তঃউপজেলার জন সাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পয়েন্টে চেক পোস্ট বসিয়ে তদারকি করা হচ্ছে। সবার সহযোগিতায় আশা করি এর সুফল পাওয়া যাবে।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: