ডেস্ক রিপোর্টঃ করদাতারা সাধারণতঃ সব সময় দুঃশ্চিন্তায় থাকেন কত টাকা কর প্রদান করতে হবে তা নিয়ে। অনেকের কাছে পরিশোধিত করের পরিমাণ অনেক বেশি মনে হয়। মনে হয়, যদি আরেকটু কম কর পরিশোধ করা যেত। কীভাবে কম কর পরিশোধ করা যায়। এ ব্যাপারে কর অঞ্চল-কুমিল্লার সদর দপ্তর (প্রশাসন) বাপন চন্দ্র দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান করদাতার জন্য অবশ্যই কিছু কৌশল আছে। করদাতারা আইনের মধ্যে থেকেই বিভিন্ন নিয়ম কানুন মেনে তাঁর বার্ষিক আর্থিক আচরণ করলেই করের বোঝা কমে যাবে। তিনি জানান প্রথমেই জানা থাকতে হবে কর রেয়াতের যোগ্য বিনিয়োগ অথবা দানের খাত কী কী আছে। আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই বিনিয়োগ বা দান করলে কর দায় অনেকটাই এড়ানো যায়। কর রেয়াতের যোগ্য বিনিয়োগ/ দানের খাতগুলো হলো-

 জীবন বীমার প্রিমিয়াম;
 জীবন বীমার প্রিমিয়াম;
 সরকারি কর্মকর্তার প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদা;
 স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তা ও কর্মকর্তার চাঁদা;
 কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠী বীমা তহবিলে চাঁদা;
 সুপার এনুয়েশন ফান্ডে প্রদত্ত চাঁদা
 যে কোন তফসিল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপোজিট পেনশন স্কীমে বার্ষিক সর্ব্বোচ্চ ৬০,০০০/- টাকা বিনিয়োগ;
 সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে বিনিয়োগ;
 বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভূক্ত কোম্পানীর শেয়ার, স্টক, মিউচুয়্যাল ফান্ড বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ;
 বাংলাদেশের সরকার অনুমোদিত ট্রেজারী বন্ডে বিনিয়োগ;
 নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ক্রয়ে বিনিয়োগ
 জাতির জনকের স্মৃতি রর্ক্ষাথে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে অনুদান।
 যাকাত তহবিলে দান;
 আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কে দান;
 আহসানিয়া ক্যান্সার হাসপাতালে দান;
 ICDDRB তে প্রদত্ত দান;
 CRP, সাভার এ প্রদত্ত দান;
 সরকার কর্তৃক অনুমোদিত জনকল্যাণমূলক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান;
 এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ এ দান;
 ঢাকা আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে দান;
 মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের কোন প্রতিষ্ঠানে অনুদান;

কত টাকা বিনিয়োগ / দানের ক্ষেত্রে কীভাবে কর রেয়াত পাওয়া জানতে চাইলে তিনি জানান এটি দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে- (১) করদাতার মোট আয় এবং (২) রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount)। রেয়াতের জন্য অনুমোদন যোগ্য অংক কত টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন-

এটি হবে-
১.রেয়াত পাওয়ার যোগ্য খাতে করদাতার প্রকৃত বিনিয়োগ/ চাঁদার পরিমাণ; অথবা
২.ফাইনালি সেটেলড ট্যাক্সড্ ইনকাম এবং কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য আয় ব্যতীত করযোগ্য মোট আয় ; অথবা
৩. ১(এক) কোটি ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা- এ তিনটি মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম তাই হবে কর রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ/ দান। অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ/ দানের উপর কত শতাংশ হারে রেয়াত পাওয়া যাবে জানতে চাইলে তিনি জানান-
করদাতার মোট আয় দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে অনুমোদনযোগ্য অংকের উপর ১৫%। মোট আয় দশ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তুু ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে অনুমোদনযোগ্য অংকের প্রথম দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার ১৫% এবং অবশিষ্ট অংকের উপর ১২%। ৩০লক্ষ টাকার অধিক আয় হলে অনুমোদনযোগ্য অংকের প্রথম ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ১৫%, পরবর্তী ৫ লক্ষ টাকার ১২% এবং অবশিষ্ট অংশের উপর ১০%।
এছাড়া নিয়মিত ভাবে অগ্রীম/ উৎসে কর পরিশোধ, কর দিবসের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে করের দায় অনেকখানি কমানো যায়। উপরন্তুু বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ফলে নিজের ভবিষ্যৎ অনেকখানি নিশ্চিত হয়ে যায়।
আয়কর মেলায় করদাতাদের এভাবেই পরামর্শ দেয়া হয় । ফলে করদাতারা অজ্ঞতার কারণে পূর্বে যেখানে বেশি কর দিত মেলায় পরামর্শ করে রিটার্ন জমা দেয়ার ফলে করদায় আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই অনেকটা কমে যায়।
মেলার ৩য় দিনে সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ৪২৩৩ জন। দাখিলকৃত রিটার্নের সংখ্যা ১৪৯১। আহরিত আয়করের পরিমাণ ৭৫,৭৮,২২২/-। ইটিআইএন গ্রহণ করেন ৪৩ জন। রি- রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা শূণ্য। তবে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেন অনেকেই। আজ মেলার শেষ দিনে সর্বাধিক রিটার্ন দাখিল এবং কর আহরিত হবে বলে কর কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: