ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, মাতৃভাষা বাংলার জন্য ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জীবন দিয়েছেন এদেশের কিছু শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতিসংঘ এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় তা সারা বিশ্বে পালন কর হয়ে থাকে। তবে মাতৃভাষার জন্য লড়াইয়ের এত বছর পরও আমরা আমাদের দেশে সর্বত্র মাতৃভাষা বাংলা চালু করতে পারিনি। উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা এবং অন্যান্য জায়গায় আমরা পূর্নাঙ্গ রূপে মাতৃভাষা বাংলা চালু করতে পারিনি। বরং দেশে বর্তমানে চলছে ভাষার এক ধরণের বিকৃত এবং উদ্ভট ভাষার ব্যবহার।

বাংলাদেশ সরকার দেশের সর্বত্র মাতৃভাষা বাংলা প্রচলন করার জন্য একটি যুগান্তকারী আইন প্রনয়ন করে ১৯৮৭ সালে যা বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ নামে পরিচিত।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্র ভাষা হবে বাংলা। সরকার এই অনুচ্ছেদ পূর্ণরূপে কার্যকর করিবার উদ্দেশ্যে আইনটি কার্যকর করে।

আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারী অফিস, আদালত, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সওয়াল জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখিতে হইবে। উল্লেখিত কোন কর্ম স্থলে যদি কোন ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় আবেদন বা আপীল করেন তাহা হইলে উহা বেআইনী ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে। যদি কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন তাহা হইলে উক্ত কার্যের জন্য তিনি সরকারী কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপীল বিধির অধীনে অসদাচরণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং তাহার বিরুদ্ধে সরকারী কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপীল বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

সর্বত্র বাংলা ভাষা প্রচলন করার জন্য এই আইনটি প্রনয়ন করা হলেও আমরা আমাদের প্রত্যাহিক জীবনে সবসময় এই আইনটি অনুসরণ করি না।তাই ভাষার এই মাসে আসুন সবাই শপথ করি সর্বত্র মাতৃভাষা বাংলা ব্যবহার করব এবং মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় সবসময় সতর্ক থাকবো।

মোঃ কামাল হোসেন,
সহকারী ব্যবস্থাপক (আইন),
বিজিডিসিএল, কুমিল্লা।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: