ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেছে, এখন সময় এসছে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। আগামী ৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে জ্ঞান নির্ভর উন্নত একটি সমাজ সৃষ্টি করতে হবে। যে জাতি জ্ঞান নির্ভর নয় সে জাতি যতই উন্নত হোক বিশ্বের কারো কাছেই তার কোন মর্যাদা নেই। তিনি বলেন, শিক্ষা,  সাংবাদিকতা, রাজনীতি, ব্যবসা বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রেই আগামীদিনের সুনাগরিক হতে নিজেকে তৈরী করতে হবে। তা না হলে কালের স্রোতে হারিয়ে যেতে হবে, কেউ মনে রাখবে না।

শুক্রবার সন্ধ্যায় অনলাইন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম সিটিভি নিউজ২৪ এর চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত  সিটিভি নিউজ২৪ এর চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সিটিভি নিউজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এডভোকেট মাসুদুর রহমান সিকদারের  সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক আলহাজ্ব মো, ওমর ফারুক, এডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম, এডভোকেট সৈয়দ নুরুর রহমান। শুভেচছা বক্তব্য রাখেন সিটিভি নিউজ২৪ এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো, ওমর ফারুকী তাপস। উপস্থপনায় ছিলেন, সাংবাদিক কাজী এনামুল হক ফারুক।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লার বিশিষ্ট ১০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তারা হলেন, হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি, আলহাজ্ব মো. ওমর ফারুক, কামান্ডার শফিউল আহমেদ বাবুল, এডভোকেট সৈয়দ আবদুল্লাহ পিন্টু, সার্জেন্ট মো. আবুল কাসেম, এডভোকেট মো. জহিরুল ইসলাম সেলিম, মো. রফিকুল ইসলাম. মো. নঈমুল হক ভূইয়া, মো. নজির আহাম্মদ ও সৈয়দ তোফাজ্জল হোসেন চিশতী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী বাহার আরো বলেন, সাংবাদিকরা ইতিহাস লিখে আর ইতিহাসবিদরা সাংবাদিকদের লিখনী থেকে ইতিহাস  তৈরী করে। সাংবাদিকরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করে। সাংবাদিকতার পেশা একটি মহান পেশা। সেই সাংবাদিকতা যদি নীতিনৈতিকতা বর্জিত হয় তাহলে সমাজে গুণ ধরে। তিনি বলেন, অনেক সাংবাদিক কলমে যা আসে তাই লিখে অন্যকে বিব্রত ও বিভ্রান্ত করেন। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এমপি বাহার বলেন, অনেকে সিটি কর্পোরেশনের ভাগ বাটোয়ার নিয়ে আমাকে জড়িয়ে অসত্য কথা লিখেছেন-আমি নাকি কমিশন খাই। সাক্কু এত পার্সেন্ট, আমি এত পার্সেন্ট আর কাউন্সিলররা এত পার্সেন্ট। আমি কমিশন খাই এটা প্রমাণ করতে পারলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আমার বিচার করুন। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পরি আমি কোন কমিশন খাইনা। আমার সন্তানদের হক হালাল রুজি করে খাওয়াই। হারাম খাইনা। আমার বংশেও কেউ হারাম খায়নি। কুমিল্লা পৌরসভার ড্রেন পরিস্কারের সময় আমি সামান্য টাকা দিয়ে ড্রেন পরিস্কার করেছিলাম। আর এখন ড্রেন পরিস্কার করতে ৫০/৬০ লাখ টাকা বিল হয়। এসব কেউ দেখেনা। তিনি বলেন হাজী বাহার কারো থেকে চা খেয়ে কাজ করেনা। বাহার বলেন, আমি মুন্সেফের নাতি, দুঃখের বিষয় হল আমাকে এখন যুদ্ধ করতে হয় নবাব বাড়ির বাবুর্চির নাতির সাথে।

এমপি বাহার বলেন, আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি তখন দেশ প্রেমের চেতনায় মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে আমরা জানতাম মুক্তিযুদ্ধ হবে। সেই স্বাধীনতার সৈনিক আমরা। আমাদের দিয়ে দুইনম্বরী কাজ হবেনা। তিনি বলেন,দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের বদনাম পত্রিকায় প্রকাশ হলেও কুমিল্লা ছাত্রলীগ কোন ধান্ধা বা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নেই। কুমিল্লাকে শান্তির শহর হিসেবে গড়তে চাই।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: