কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার উৎপাদিত টমেটোর দেশজুড়ে সুনাম রয়েছে। এ উপজেলার উৎপাদিত টমেটো কুমিল্লা জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। সবজি খ্যাত চান্দিনায় টমেটো চাষে এবার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। শুধুমাত্র চলতি মৌসুমের টমেটো চাষে চান্দিনা উপজেলার কৃষক প্রায় ৭০ কোটি টাকা মুনাফার দিকে এগোচ্ছে। যা দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে বড় যোগান দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টমেটো চান্দিনা উপজেলার জন্য প্রধান অর্থকারী ফসল। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া টমেটো চাষের জন্য উপযোগী বিধায় এ উপজেলার কৃষকরা মৌসুমি ফসলের শুরুতেই টমেটো চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার টমেটোচাষি রয়েছে। টমেটো চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিবছর এ উপজেলায় টমেটোচাষাদের সংখ্যা ও জমির টমেটোর চাষ বৃদ্ধি পায়। মৌসুমের শুরুতে টমেটো চাষে এ বছর ৪৮০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৫৯০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করেছে কৃষক।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে উপজেলার চিলোড়া, পূর্ব-অম্বরপুর, এতবারপুর, হারং, ছায়কোট, ডুমুরিয়া, বাড়েরা এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে টমেটো চাষ করেছে। অনেক টমেটোচাষি রয়েছে যারা বছরের অন্য সময়ে কৃষিকাজের সাথে জড়িত নয় তারাও এ মৌসুমে টমেটো চাষ করে। অনেক পরিবার টমেটো চাষ করে সাবলম্বী হয়েছে। শীতকালীন উৎপাদিত সবজি টমেটোর চাহিদা বছরজুড়ে থাকায় এবং প্রায় তিনগুণ মুনফা পাওয়ায় কৃষকরা টমেটো চাষে ঝুঁকছে।

একজন কৃষক প্রতিশতক জমিতে টমেটো চাষে খরচ করে ১২ শ থেকে ১৫ শ টাকা। আর সমপরিমাণ জমিতে টমেটো বিক্রি করে ৬-৭ হাজার টাকা। প্রতিশতকে আয় হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা। সে হিসাব মতে চান্দিনা উপজেলার ৫৯০ হেক্টর জমিতে শুধুমাত্র টমেটো বিক্রি করে লাভ হবে ৭০ কোটি টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা. আফরিনা আক্তার জানান, মৌসুমের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবং সারের সুষম বণ্টনের কারণে আশানুরূপ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় টমেটোর তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। অপরদিকে মূল্য ভালো পাওয়ায় কৃষকরাও লাভবান হয়েছেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: