ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লায় পুলিশ কনষ্টেবল পদে সাধারন কোটা, মুক্তিযোদ্ধা ও পোষ্য কোটায়- কৃষি, ব্যবসা, দিন মজুর, সরকারী চাকুরী, বেসরকারী চাকুরী, অবসরপ্রাপ্ত, চাকুরীরত অবস্থায় মৃত, কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত, অবসর গ্রহণের পর মৃত সন্তানদের কুমিল্লা জেলায় চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে ঘুষ বিহীন মোট ২৯৮ জন পুরুষ ও মহিলাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ পদে ২২৪৯ জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন।

তাঁদের মধ্যে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৯৮ পুরুষ ও মহিলা কনষ্টেবল। ২৯৮ জনের মধ্যে কৃষকের সন্তান ৯৭ জন, দিন মজুরের সন্তান ৩৭ জন, সরকারী চাকরীজীবির সন্তান ৩২জন, বেসরকারী চাকুরীজীবি ১০জন প্রবাসীর সন্তান ২১জন, অবসরপ্রাপ্ত সন্তানের ১০ জন, চাকরীরত অবস্থ মৃত সন্তান ৪জন, কর্মরত অবস্থা মৃত ২জন, অবসর গ্রহনের পর মৃত ১জন সন্তানের কনস্টেবল পদে ঘুষ বিহীন নিয়োগ দিয়েছেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবিদ হোসেন।
বুধবার (২৮ মার্চ)কুমিল্লা জেলার পুলিশ লাইন্সে শহীদ আর.আই এ বি এম আব্দুল হালিম মিলনায়তনে বাংলাদেশ পুলিশ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (নারী/পুরষ) পদে কুমিল্লা জেলায় চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের দিকনির্দেশনা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো: শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন, অতিঃ পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আব্দুল্লাহ আল-মামুন, অতিঃ পুলিশ সুপার (উত্তর) মোঃ সাখায়াত হোসেন, জেলা পুলিশের সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন বলেন- ‘মেয়েডার খুব ইচ্ছা পুলিশ হয়্যা দ্যাশের সেবা করবে। আমি কুমিল্লা পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবিদ হোসেন সাহেবের সাথে দেখা করে আমার মেয়ের চাকুরী জন্য অনুরোধ করেছিলাম। আজ আমার স্বপ্ন পুরণ হলো পুলিশ সুপার সাহেবের কারণে। আমি উনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাই না। আল্লাহর কাছে উনার জন্য দোয়া চাইবো। এ রকম প্রায় ৩ শতাধিক পুলিশের চাকুরী নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বলেন, ‘ঘুষ ছাড়া ছেলে পুলিশে চাকরি পাবে, এটা কখনো ভাবিনি।’

জানা যায়, বিগত ২০১৫ সালের ৩১ মে কুমিল্লা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর ইতোমধ্যে তিনটি ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন মো. শাহ আবিদ হোসেন। এ বছর নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতেই তিনি মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগে প্রতিশ্রতি ব্যক্ত করেন।

পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম জানান, কনস্টেবল নিয়োগে দেশের মধ্যে প্রথম শুরু হওয়া ডিজিটাল পদ্ধতিটি এ জেলায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। প্রতিটি উপজেলার জন্য আলাদা আলাদা বুথ ল্যাপটপ কম্পিউটার রয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে উত্তীর্ণদের সকল তথ্য সফট্ওয়্যারের মাধ্যমে ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কেউ যাতে প্রক্সি দিতে না পারে সেজন্য ৪টি ছবি নিয়ে প্রবেশপত্র, টেবুলেশন শিটে আলাদাভাবে সংযুক্ত করা হচ্ছে এবং আবেদনকারীর স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে।

এসব দেখেশুনে সফট্ওয়্যারের মাধ্যমে প্রবেশপত্র ইস্যুর পর নির্বাচনী বোর্ড সদস্যদের যাচাই-বাছাই ও স্বাক্ষর শেষে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো ব্যক্তি, পুলিশ সদস্য বা যে কারো বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: