নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ডাকাত দলের গ্রুপিং ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে ডাকাত দলের গুলিতেই নিহত হয়েছেন জলদুস্যদের সর্দার ইসলাম (৩৭)।

বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলার দাউদকান্দি উপজেলার বাজরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোরে সে মারা যায়। নিহত ওই ডাকাত ইসলাম (৩৫) ওই উপজেলার বাজরা গ্রামের রাজু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে গেছে, দাউদকান্দিতে গোমতী নদী কেন্দ্রিক জলদস্যুদের একাধিক গ্রুপ দীর্ঘ দিন ধরে ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ে সক্রিয় রয়েছে। ডাকাতরা নৌ-পথে যাত্রী ও পণ্যবাহী জাহাজ, লঞ্চ ছাড়াও বালু ও মাটি পরিবহন করা বড় নৌকা ও ট্রলারের চালকসহ যাত্রীদের নিকট থেকে চাঁদাবাজি, হামলা, মালামাল লুটসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে আসছিল।

গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় ১০-১২ জনের সশস্ত্র ডাকাত দলের সাথে থানা ও জেলা ডিবি পুলিশের সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় নিহত ইসলামের বড় ভাই ডাকাত সদস্য মহসিন (৩৭) ও একই গ্রুপের রিপন (২৫) নামের ২ ডাকাত সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় গ্রেফতার না হওয়া ডাকাত সর্দার ইসলাম পুলিশের অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে এমন ধারণা ও ভুলবুঝাবুঝি থেকে ডাকাত দলের স্থানীয় ২টি গ্রুপই তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এর জের ধরে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার বাজরা গ্রামের ডাকাত সর্দার ইসলামকে তার বাড়ির অদূরে একা পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা তার উপর হামলা চালায়। এসময় তাকে গুলি করে ও পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোরে সে মারা যায়। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে ডাকাত সর্দার ইসলামের নেতৃত্বে দাউদকান্দি ও মেঘনা এলাকায় জলদস্যুদের একাধিক গ্রুপ ডাকাতি করে আসছিল।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, নিহত ডাকাত ইসলামের বিরুদ্ধে দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের কমপক্ষে ১০টি মামলা রয়েছে। দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: