কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় গেজেটভুক্ত ২২৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ হোসেন আউয়ালসহ পাঁচজন।

যাচাই-বাছাই কমিটির সব সদস্যের স্বাক্ষর সংবলিত একটি প্রতিবেদন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় গত বৃহস্পতিবার। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন বাছাই কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ সরকার। সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন।

এর আগে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদের কবি নজরুল মিলনায়তনে ওই ২২৩ গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই শুরু হয়।

অমুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে তালিকায় নাম তোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ২০০৮ সাল থেকে ১৩ বছর ধরে ভাতা নেয়ার বিষয়টিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধারা। সৈয়দ আহাম্মদ হোসেন আউয়াল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত যে বীর মুক্তিযোদ্ধারা গেজেটভুক্ত হয়েছেন তাদের ব্যাপারে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকার পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে নেতিবাচক তথ্য যায়। অনেক মুক্তিযোদ্ধার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে ২২৩ মুক্তিযোদ্ধা যাচাইয়ের আওতায় আনতে পত্র আসে মুরাদনগরে। সে অনুযায়ী গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে চিঠি দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের নির্দেশ বিধি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাছাই সম্পন্ন করেছে গঠিত কমিটি।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ বলেন, ‘যাচাই-বাছাইয়ে আমরা তিন ধরনের তালিকা করেছি। তিন ধরনের তালিকাতে দ্বিধা-বিভক্ত, বাতিল ও পজিটিভ সবগুলোই আমরা জামুকায় পাঠিয়েছি। জামুকা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’

জামুকা চেয়ারম্যানের মনোনীত মুরাদনগর যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ সরকার বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ হোসেন আউয়ালের তিন সাক্ষী হারুনুর রশিদ, সিরাজুল ইসলাম ও ইদ্রিস আলী লিখিতভাবে সাক্ষ্য প্রত্যাহার করেন। তাছাড়া যুদ্ধে যাওয়ার সপক্ষে তার কোনো দালিলিক প্রমাণাদি না থাকায় তিনিসহ পাঁচজনকে উপজেলা কমিটি অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বাছাই কমিটিতে কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনের এমপির মনোনীত প্রতিনিধি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মিয়া ও জেলা প্রশাসকের মনোনীত সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য সচিব ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ।

যাচাই-বাছাই তালিকা থেকে বাদ পড়া অন্যরা হলেনÑউপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের সুলতান আহম্মদের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ হোসেন আউয়াল, ঘোড়াশাল গ্রামের আছমত আলী সরকারের ছেলে মজিবুর রহমান, সাহেবনগর গ্রামের মৃত করম আলীর ছেলে খলিলুর রহমান, নহল গ্রামের মুন্সি আজগর আলীর ছেলে আবদুল মতিন ও বাংগরা গ্রামের মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: