শোকের মাসে মোটর বাইক শোভা যাত্রা করলো চান্দিনা উপজেলা যুবলীগ। এ নিয়ে বিব্রত উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়াও করোনা মহামারীর এ সময়ে জনসমাগম করার বিষয়টি নিয়েও সর্বত্র এখন আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা যায়, কুমিল্লা ৭ (চান্দিনা) সাংসদ অধ্যাপক আলী আশরাফ এমপি গত ৩০ জুলাই মারা যান। তারপর থেকেই এই আসনে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে নিজের অবস্থান জানান দিতে শুরু করে মুনতাকিম আশরাফ টিটু।

গত বুধবার দোল্লাই নবাবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মরহুম অধ্যাপক আলী আশরাফের স্মরণে একটি স্মরণ সভা হয়। ওই স্মরণসভায় মানা হয় নি স্বাস্থ্যবিধি। অনেকের মুখে ছিলো না মাস্ক। এছাড়া ওই স্মরণ সভায় যোগদানের উদ্দেশ্য যুবলীগের ব্যানারে শতাধিক মোটরবাইক নিয়ে শোভা যাত্রা করে অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দেয় উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।

প্রয়াত এমপি অধ্যাপক আলী আশরাফ এমপির একমাত্র ছেলে চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটু সমর্থিত যুবলীগ নেতাকর্মীরা এ শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। শোভাযাত্রাটি অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার আগে চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিন করেন।

এ সময় শোভাযাত্রা থেকে মুনতাকিম আশরাফ টিটুর পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এছাড়াও করোনার এ সময়টাতে মানা হয় নি স্বাস্থ্যবিধি। পুরো বিষয়টা কুমিল্লা জেলায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সাংসদ অধ্যাপক আলী আশরাফের মারা যাওয়ার সপ্তাহ না যেতেই তার ছেলের পক্ষে নেতাকর্মীরা মোটরবাইক শোভাযাত্রা করেছে। পিতার বিয়োগের শোক না কাটতেই কিভাবে ছেলের পক্ষে মোটর বাইক শোভাযাত্রা বের হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের অনেক নেতাকর্মী।

এছাড়াও একদিকে করোনা অন্যদিকে শোকের মাস। তার মধ্যেই যুবলীগের ব্যানারে মোটরবাইক শোভা যাত্রা নিয়ে বিব্রত আওয়ামীলীগ ও অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মু. রুহুল আমিন বলেন, আমি মোটরবাইক শোভাযাত্রার কথা শুনি নাই। তবে যদি কেউ এমন আয়োজন করে তাহলে তা ভুল করেছে। শোকের মাসে দলীয় লোকজনের এমন আয়োজন খুবই দৃষ্টিকটু হবে।

অভিযোগের বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটু বলেন, আমরা ১৫ আগষ্টের কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা করেছি। উপজেলায় কোথায় কি হবে তা নিয়ে কাজ করার সময় যুবলীগের অতিউৎসাহী নেতাকর্মীরা এমন কাজ করেছে। যা নিঃসন্দেহে দৃষ্টিকটু। সাংগঠনিকভাবে আমরা এ বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছি।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: