কুমিল্লা জেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য চলছে। ভুক্তভোগী লোকজনের অভিযোগ, এখানে হয়রানির সীমা নেই। যে কোনও কাজের জন্য দালাল ধরতে হয়। অতিরিক্ত টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরেও কাজ হয় না। অন্যদিকে, দালালদের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রারকে ‘ম্যানেজ করে’ জমির দাম কম দেখিয়ে রেজিস্ট্রি ফি কম দেওয়ায় রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা সদরে অবস্থিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩৭-৪০ সদস্যের একটি শক্তিশালী দালালচক্র রয়েছে। এদের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে ওই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মকচারীদের। দালাল না ধরলে কর্মকর্তা-কর্মকচারীরা দলিলের নকল পর্যন্ত গ্রাহকদের দেন না।

গ্রাহকদের অভিযোগ, এখানে সাধারণ নিয়মে কোনও কাজ হয় না। বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে দালালদের মাধ্যমেই কাজ করাতে হয়। জমির দলিল নিবন্ধনে সরকারি নিয়মে যেখানে সাত হাজার টাকার মতো লাগে, সেখানে তাদের ১০-২০ হাজার টাকা বাড়তি দিতে হয়।

দলিল লেখকদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, কমিশন ফি, বায়নানামা রেজিস্ট্রি, হেবা দলিল, ওসিয়তনামা, অংশনামা, দলিল রেজিস্ট্রি, সই মহুরি, জরিপ সংশোধন ইত্যাদি কাজ দালালচক্রের মাধ্যমেই করতে হয়। আর এতে পাঁচ-সাত গুণ বাড়তি টাকা দিতে হয় গ্রাহকদের।

মো. লুৎফর নামে এক গ্রাহক জানান, দালালদের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করলে ১০ লাখ টাকার জমি দাম দেখানো হয় দুই লাখ টাকা। এতে বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় সরকার।

মিজানুর রহমান নামে এক গ্রাহক জানান, জমির দলিল তুলতে যেখানে ৫০ টাকা লাগার কথা, সেখানে তাদের এক থেকে দেড় হাজার টাকা দিতে হয়। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সীমানায় পা রাখলেই দালাল চক্রের সদস্য ঘিরে ধরে মূল দালালদের কাছে নিয়ে যায়।

দালাল চক্রের সদস্য ফারুক ও ছাত্তার জানান, কুমিল্লা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে প্রায় ৩৭-৪০ জন সদস্যের চক্র রয়েছে। তারা বলেন, ‘রেজিস্ট্রি অফিসে কোনও গ্রাহক দলিলের নকল বা মূল কপি তুলতে আসলে আমরা তাদের সহায়তা করে থাকি। এতে গ্রাহকেরা খুশি হয়ে যা দেন, তাই আমরা হাত পেতে নিই। ঘুষ খান মূলত কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারাই।’

সাব-রেজিস্ট্রার মো. আলী আহামাদ বলেন, ‘ঘুষ বা বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। তবে দালালদের হাতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ আমিও পেয়েছি। রেকর্ড রুমে যারা দায়িত্বে আছেন, ইতোমধ্যে তাদের ডেকে এনে সাবধান করা হয়েছে। এ ছাড়া, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যারা দালালি করছে, তাদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: