ডেস্ক রিপোর্টঃ আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুনীর্তি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিএনপিতে ছড়িয়ে পড়েছে গ্রেপ্তার আতঙ্ক। রায়কে সামনে রেখে কুমিল্লায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২০ জনকে। এর মধ্যে সদর দক্ষিণে ১২ জন, বুড়িচংয়ে ৫ জন এবং চান্দিনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপনে পেট্রল বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নেয়ার অভিযোগে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা থেকে  ১২ জনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২১নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাসহ ৬২ জনকে আসামী করা হয়েছে।

গত তিন ধরে বুড়িচং থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ সুয়া মিয়া মেম্বার, ষোলনল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ সালেহ আহাম্মদ, ভারেল্লা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সফিকুর রহমান সুমন, বিএনপি কর্মী কবির হোসেন, ও মোঃ সেলিম মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইন, বিস্ফোরক আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কুমিল্লার চান্দিনা পৌর কাউন্সিলর কামাল ও সাবেক কাউন্সিলর হাজী নূরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় চান্দিনা বাজার থেকে হাজী নূরুল ইসলামকে, রাত সাড়ে ৮টায় বেলাশহর বৌবাজার এলাকা থেকে কাউন্সিলর কামলকে এবং রাত ৯টায় পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা থেকে শিহাবকে আটক করা হয়। হাজী নূরুল ইসলাম মুন্সী (৪৮) চান্দিনা পৌর সদরের মহারং এলাকার মরহুম আব্দুল খালেক মুন্সিলর ছেলে। তিনি পৌর যুবদল সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। কামাল হোসেন (৩৮) পৌরসভার বেলাশহর এলাকার মরহুম আব্দুল মালেক মেম্বারের ছেলে। তিনি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি। মঈনুল ইসলাম শিহাব (৩৫) চান্দিনা পল্লী বিদ্যুৎ রোডের নূরুল ইসলাম আর্মির ছেলে। তিনি পৌর ছাত্রদল সহ-সভাপতি। চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। শনিবার অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

রায়ের দিন কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ে পুবালী চত্বর দখলে রাখবেন বলে  ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তিনি নেতাকর্মীদের বলেছেন এ দিন পূবালী চত্বরে থাকতে হবে।

অপর দিকে কুমিল্লার বিএনপি নেতারা কোথায় থাকবেন সে ব্যাপারে কোন তথ্য জানা না গেলেও তারা জানিয়েছেন রাজপথেই থাকবেন তারা। তাদের মতে ‘পূবালী চত্বর’ তো আর পুরো কুমিল্লা নয়। রায়ে বেগম খালেদা জিয়া খালাস পেতে পারেন বলেও মনে করছেন তারা। খালাস পেলে মিষ্টি বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের এক নেতা।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: