ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শহীদ তিতুমীর কলেজের ছাত্র করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অবসর সময় পার করছিলেন। তখন দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তায় মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে করতে উৎসাহী হন দুই শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তা। এরপর থেকে অনাবাদি ৪ শতাংশ জমিতে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ শুরু। অসময়ে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে সাফল্য এসেছে তাঁদের।

সোমবার (০৩ মে ২০২১) সকালে দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের পরিদর্শনে যান দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর মোহাম্মদ আলী (অব.)

দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর মোহাম্মদ আলী (অব.) বলেন, দাউদকান্দিতে প্রথমবারের মতো মাচা পদ্ধতিতে বারোমাসী তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছে । তারা পেশাদার কোন চাষি নন, ছাত্র। করোনা পরিস্থিতির কারণে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদের আওতায় আনার বিষয়ে সরকারের নির্দেশ অনুসরণ করে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষাবাদ করলে বৃষ্টি-বর্ষায় ক্ষতির পরিমাণ কম হয়। কম খরচে লাভবানও হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই তরমুজ চাষ করতে তাদের ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে ৩৫০টি তরমুজ বিক্রি করার উপযোগী। ভালো দাম পেলে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবে বলে আশা করছি।’

আমি এমন তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষি উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণে এগিয়ে আসলে আমার সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগীতা করবো।’

উদ্যোক্তা বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে বাড়িতে চলে আসি। অনেকটা অবসর সময় কাটছিল। হঠাৎ একদিন ইউটিউবে দেখতে পাই, মাচা পদ্ধতিতে অসময়েও তরমুজ চাষ করা যায়। আর সময় না করে বাড়ির পাশের অনাবাদি জমিতে তরমুজ চাষের উদ্যোগ নেই। দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার স্যার ও কৃষি উৎপাদনের সকলের সার্বিক সহযোগিতায় বারোমাসী তরমুজ চাষ করতে সক্ষম হই।’

দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান জানান, নিজেদের অনাবাদি ৪ শতাংশ জমিতে বারোমাসী তরমুজ চাষের শুরু করেন তরুণ উদ্যোক্তা। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে তরমুজ চাষ প্রক্রিয়া শুরু করে।আজ সরেজমিনে এসে দেখলাম , মাচায় সবুজ লতায় মোরানো গাছ, এর ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে তরমুজ। প্রতিটি তরমুজ সুতার জালে মোরানো। একেকটি তরমুজ তিন থেকে চার কেজি ওজনের। বেশিরভাগ তরমুজ এখন বিক্রয় উপযোগী। ‘

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: