মো.জাকির হোসেনঃ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের পরিহলপাড়া গ্রামের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের ঘটনায় চাচা আবদুল গফুর (৪৮)’কে গ্রেফতার করেছে বুড়িচং থানা পুলিশ। এঘটনায় জড়িত অপর চাচা আলমগীর গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের অখ্যাত পল্লী পরিহলপাড়া। ১৬ নভেম্বর কর্মসুত্রে পিতা জাকির হোসেন ও নানী অসুস্থতার কারণে মা আয়সা বেগম বাড়িতে ছিলেন না। রাত আনুমানিক সোয়া ১২ টায় প্রেমিক প্রেমিকার সাথে দেখা করতে আসলে বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবেশী চাচা সম্পর্কীয় একই গ্রামের শাহজাহানের ছেলে আলমগীর ও জেঠা সম্পর্কীয় মজিদের ছেলে গফুর প্রেমিক-প্রেমিকাকে আটক করে। এসময় প্রেমিককে চড়-থাপ্পরসহ মারধোর করতে থাকলে একপর্যায়ে দৌড়ে সে পালিয়ে যায়। এসুযোগে চাচা ও জেঠা মিলে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষন করে এবং ঘটনা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয়ভীতিসহ কাউকে না বলার হুমকী দিয়ে চলে যায়।

=> আরো পড়ুনঃ কুমিল্লা বুড়িচংয়ে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষন করলো দুই চাচা

এদিকে প্রেমিকার মোবাইল বন্ধ দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় প্রেমিক। পরদিন ১৭ নভেম্বর শনিবার সকালে প্রেমিকা মোবাইল ফোনের ইমোতে প্রেমিককে জানায় তার ধর্ষনের ঘটনা এবং সে আতœহত্যারও হুমকী দেয়। পরে প্রেমিক তার ৩/৪ জন সহযোগী নিয়ে পরিহলপাড়া গ্রামের একটি দোকানের সামনে পেয়ে শনিবার দুপুরে ধর্ষক গফুরকে মারধোর করার সময় সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এদিকে একইদিন দুপুরে মা আয়সা বেগম মেয়ের ধর্ষনের খবর পেয়ে ছুটে আসে বাড়িতে। আয়সা বেগম সাংবাদিকদের জানান, বাড়িতে আসার পর আমার স্বামীর ভাই হাবিবের স্ত্রী’র কাছে (শবনম ) ধর্ষনের কথা বলেছে শুনি। পরে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য ধর্ষকদের পরিবারের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগের কারণে তারা ভয়ে চুপ হয়ে যায়।

এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা আয়েশা বেগম বাদী হয়ে ২২ নভেম্বর শুক্রবার বুড়িচং থানায় একটি একই গ্রামের শাহজাহানের পুত্র আলমগীর হোসেন (২৮) ও মৃত আব্দুল মজিদের পুত্র আব্দুল গফুর (৪৮) কে আসামী করে ধর্ষন মামলা দায়ের করে। মামলা প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক আব্দুল গফুর (৪৮) কে গ্রেফতার পূর্বক কুমিল্লা আদালতে প্রেরণ করেছে।

বুড়িচং থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ সাফায়েত হোসেন মামলা ও আসামী গ্রেফতারের বিষটি সত্যতা নিশ্চিত করেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: