ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রশাসন-জনপ্রতিনিধি দ্বন্দ্বে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় প্রতিনিয়তই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। মুরাদনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলুল কাদেরের বিরুদ্ধে বিতর্কিত উক্তি, দুর্ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে কোনো প্রকার সভা-সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন না উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্য জনপ্রতিনিধিরা। এদিকে ইউএনওর উপস্থিতিতে সব প্রকার সভা-সেমিনার বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রতিনিধিরা। এ ঘটনার প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না মন্ত্রণালয় তথা জনপ্রশাসন কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, মুরাদনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলুল কাদেরের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, সমাজের গণ্যমান্য ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজনসহ জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্য এবং ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কটূক্তি করা ও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনে সব প্রকার সভা-সেমিনার বর্জনের ঘোষণা দেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যাসসহ জনপ্রতিনিধিরা। ওই নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে সোচ্চার এ উপজেলার সব জনপ্রতিনিধি। ইউএনও-জনপ্রতিনিধি এ দ্বন্দ্বে উপজেলায় কার্যত অচলাবস্থা বিরাজ করছে। ইউএনওর সঙ্গে দ্বন্দ্বের ফলে পরপর কয়েকটি সভায় অংশগ্রহণ করেননি উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ইউপি চেয়ারম্যানরা। তাই কোরাম সংকটের ফলে ২ মাস ধরে সমন্বয় সভা এবং আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। অপরদিকে ইউএনওর এসব অপকর্ম তুলে ধরে উপজেলার বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের নিয়ে সম্মেলন করেন। সংবাক সম্মেলনের সংবাদ প্রকাশ করায় ইউএনও রাসেলুল কাদের সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এতে এলাকাবাসীসহ সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে মুরাদনগরে সাংবাদিকরা ইউএনও রাসেলুল কাদেরের প্রত্যাহার দাবি করে মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। কিন্তু এখনও ওই ইউএনওকে প্রত্যাহার কিংবা এ সংকট নিরসনে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে উপজেলার টনকি ইউপির চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসাইন এবং নবীপুর পূর্ব ইউপির চেয়ারম্যান কাজী আবুল খায়ের বলেন, বিতর্কিত ইউএনও রাসেলুল কাদেরের সভাপতিত্বে আমরা কোনো সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ করব না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলুল কাদের বলেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি সরকারি কাজে অংশগ্রহণ না করে তাহলে তাদের জনপ্রতিনিধিত্ব পদ থাকবে না। তাকে প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সরকারের ব্যাপার, সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে সে অনুযায়ী আমি কাজ করব। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারে লিপ্ত।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ কাইয়ুম খসরু বলেন, ইউএনওর রাসেলুল কাদেরের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে উপজেলার সব ইউপি চেয়ারম্যান সদস্যসহ প্রতিনিধিরা ক্ষুব্ধ। তাই তার উপস্থিতিতে জনপ্রতিনিধিরা কোনো প্রকার সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ করছেন না। জনপ্রতিনিধিরা ইউএনও রাসেলুল কাদেরের প্রত্যাহার দাবি করছেন।

সূত্রঃ যুগান্তর

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: