ফাইল ফটো

বস্তিবাসীর জন্য উন্নত আবাসন ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে তিন জেলায় ৫ হাজার ৭০০ নিম্ন আয়ের পরিবার পাবে উন্নত আবাসন। চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্প গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক)। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থ থাকবে ৫৯ কোটি ৩৫ লাখ আর দাতা সংস্থার সহায়তা থাকছে ২৪৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভায়।

প্রকল্প সূত্র জানায়, পৌরসভার নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাসের অবস্থার উন্নয়ন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ধরা হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে এই প্রকল্প শেষ না হওয়ার আশঙ্কায় এটির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে জরিপ, টেন্ডার সংক্রান্ত ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর অবকাঠামোগত কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ ভাগের মতো।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যাদের জমি নেই তাদের সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তের মাধ্যমে ৫০ বছরের জন্য দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে জমি বন্দোবস্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া যাদের নিজস্ব সামান্য জমি রয়েছে তাদেরকে উন্নত আবাসন ব্যবস্থায় সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব এলাকায় ১০০ থেকে প্রায় ৩০০টি পরিবার একসঙ্গে বাস করে সে সব এলাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানান, পৌরসভার মূল অবকাঠামোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি অবকাঠামোর উন্নয়নের পরিকল্পনাও যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পানি সরবরাহ, ড্রেন, বসতির প্রবেশপথ, বিদ্যুত্, গ্যাস, পয়ঃনিষ্কাশন ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে এই প্রকল্পে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা সদর ও অন্য শহরাঞ্চলে ছোটোবড়ো অসংখ্য বস্তি গড়ে উঠেছে। তবে দেশব্যাপী বস্তির বিকাশ ঘটেছে আশির দশকে। সংস্থাটির হিসাবে, দেশে এখন বস্তির সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। তার মধ্যে রাজধানীতেই আছে ৫ হাজারের বেশি। ১৯৯৭ সালে বিবিএসের করা জরিপে দেখা যায়, তখন বস্তি ছিল ২ হাজার ১০০। সে হিসাবে গত ২০ বছরে দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা সদর ও অন্যান্য শহরাঞ্চলে বস্তি বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ। এসব বস্তিতে এখন প্রায় ২২ লাখ মানুষ বাস করছে। তবে অনেক বেসরকারি সংস্থার মতে, দেশের বস্তিগুলোতে এখন ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস করছে।

বস্তিবাসীদের জন্য এমন সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এ এস এম ফজলুল কবির বলেন,‘তিনটি নির্বাচিত শহরে আমরা কমিউনিটির আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছি। পাকা রাস্তা, নিষ্কাশন, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন সেবা এবং সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শহরের নির্বাচিত বস্তি এলাকার জীবনমান উন্নয়নই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে একত্রীকরণ ও তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ। ‘এ ধরনের প্রকল্প আবাসনের জন্য বিনিয়োগ, পারিবারিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নতি এবং কর্মসংস্থানে প্রবেশের সুযোগসহ অপরাধ হ্রাস করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। ধীরে ধীরে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসন ব্যবস্থা আরো বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান।’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘বস্তিবাসীদের নিয়ে রাজধানী শহরে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে থাকে। তাই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেশের কয়েকটি শহরে আমরা কাজ শুরু করেছি। সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিবেশসম্মত ও পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করে বস্তিবাসীদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ ধাপ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় বস্তিবাসীদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করা যাবে।’

সূত্রঃ ইত্তেফাক