কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের আশ্বাসে কুমিল্লায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচী স্থগিত করলেন কুমিল্লা ব্যবসায়ীরা।

কুমিল্লা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্ষোভ করতে থাকে ব্যবসায়ীরা। করোনাভাইরাস সংক্রামন রোধে সাত দিনব্যাপী লকডাউনের দ্বিতীয়দিনে কুমিল্লার সকল ব্যবসায়ীরা রাস্তায় অবস্থান করে ব্যবসা পরিচালনা করার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে কুমিল্লা নগরীর বৃহৎ মার্কেটগুলোর সামনে ও সড়কে অবস্থান করে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। কুমিল্লা কান্দিরপাড়, মনোহরপুর, শাসনগাছা, সাত্তারখান কমপ্লেক্স, ইস্টার্ন প্লাজার সামনে অবস্থান করে দোকান মালিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় মানবীক দিক বিবেচনা করে দোকানপাট খোলার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন বিক্ষোভকারি সকল ব্যবসায়ীদের নিয়ে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারে কাছে যান, এ সময় ব্যবসায়ীবৃন্দ তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরেন। ব্যবসায়ীদের কথা শুনে এমপি বাহার করোনা পরিস্থিততির কথা মাথায় রেখে সকল ব্যবসায়ীদের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ধৈর্য ধরে সরকারের নির্দেশনা মানার কথা বলেন। তিনি বলেন, কুমিল্লার ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে কথা বলবেন এবং বৃস্পতিবার বকল ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করবেন।

এমপি বাহার বলেন, সরকারের সকল সিদ্ধান্ত মানুষের জীবন রক্ষা করার জন্য, করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিনি দিনি বাড়ছে, তিনি বলেন, আপনারা ব্যবসায়ীরাও যদি আক্রান্ত হন সেভাবে কুমিল্লায় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, তাই আক্রান্ত নিয়ন্ত্রন করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমপি বাহারের আশ্বাসে সকল ব্যবসায়ীবৃন্দ তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচী স্থগিত করে যার যার বাড়ি চলে যান।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে কান্দিরপাড়ে অবস্থান করে স্লোগান দেয় ব্যবসায়ী-কর্মচারিরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, দোকানপাট খুলবসহ নানা স্লোগান দেন তাঁরা, ব্যবসায়ীবৃন্দ জানান আমরা লকডাউন মানি না, আমাদের পরিবার-পরিজনের দু’বেলা খাবার জোগাতে আমাদের ব্যবসা করতে হবে, দোকান বন্ধ থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।

কুমিল্লা নিউ মার্কেটে শতাধিক দোকান মালিক, ব্যবসায়ী ও কর্মচারী সকাল ১০টায় বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় লকডাউনের মধ্যেও বের হওয়া ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় কিছু সময়ের জন্য। পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তাঁরা ছিল নিশ্চুপ।

কুমিল্লার ব্যবসায়ী লটো’র স্বত্বাধিকারী এমদাদুল হক সোহাগ জানান, দীর্ঘ সময় ধরে দোকানপাট বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তিনি জানান, স্বল্প সময়ের জন্য হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখলে আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে ব্যবসায়ীরা রক্ষা পাবে।

কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন জানান, সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে চায় কুমিল্লার ব্যবসায়ীরা। তিনি জানান কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের আশ^াসে সকল ব্যবসায়ী বিক্ষোভ কর্মসূচী বন্ধ করে দেয়।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: