দেশে করোনার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় সরকার ৭ দিনের লকডাউন ঘোষনার প্রথম দিনে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রধান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যাত্রীবাহী বাস না থাকায় স্বল্প বা দুরবর্তী বিভিন্ন গন্তব্য পথের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এসময় যাত্রীর ভরসা ছিল লেগুনাসহ লক্কর-ঝক্কর ছোট আকারের মাইক্রোবাসগুলো। দিনভর মহাসড়কের বিভিন্নস্থান ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র।

করোনার প্রভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকার সারাদেশে গত সোমবার থেকে সাতদিনব্যাপী লকডাউন ঘোষনা করে। এসময় পন্যবাহী যানচলাচল স্বাভাবিক রাখলেও গণপরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে লকডাউনের প্রথম দিন সড়কে প্রধান যাত্রীবাহী বাহন বাস চলাচল কার্যত বন্ধ ছিল। সরেজমিন মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের সদর দক্ষিণের সুয়াগঞ্জ, পদুয়ারবাজার, নন্দনপুর, আলেখারচর, ময়নামতি, নিমসার, কোরপাই, কাবিলা, চান্দিনা ঘুরে পাওয়া চিত্রে দেখা গেছে সড়কজুড়ে মালবাহী যানবাহনের পাশাপাশি সাধারন মানুষের চলাচলও ছিল উল্লেখ করার মত। উল্লেখিতস্থানগুলো থেকে বহু মানুষকে ছুটতে দেখা গেছে বিভিন্নমুখী গন্তব্যে। এসময় তাদের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিল ছোট আকারের মাইক্রোবাস (মারুতি) ,লেগুনা। তবে একই সময় মহাসড়কে যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে ইজিবাইক, ব্যাটারীচালিত রিক্সা,লক্করঝক্কর মার্কা মাইক্রোবাস, ট্রাক,মিনিট্রাকছাড়াও দু’একটি বাস।

এছাড়াও মালবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লংভ্যাহিকেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালবাহী যানবাহনগুলোর চালকদের কাছে অনুনয়-বিনয় করে গন্তব্যে পৌঁছতে নানাভাবে সহযোগিতা চাইতে দেখা গেছে যানবাহন স্বল্পতায় দুর্ভোগের শিকার সাধারন মানুষদের। লকডাউনের প্রথম দিন গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কুমিল্লার আন্তঃজেলা বাসটার্মিনালগুলো থেকে স্বল্প বা দুরপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করেনি। ফলে অনেকেই ব্যবসা-বানিজ্য বা ব্যক্তিগত কাজে বিভিন্ন গন্তব্যে আসা-যাওয়া করতে বাড়ি থেকে বেড় হলেও যান সংকটের কবলে পড়তে হয়েছে। পাশাপাশি স্বল্প দুরত্বের ৫/৬ কিলোমিটার দুরত্বের গন্তব্যে পৌঁছতে ৪/৫ গুণ অতিরিক্ত বাড়া গুনতে হয়েছে।

পদুয়ারবাজারে বিশ্বরোড এলাকায় কথা হয় লালমাই এলাকার হাজী রহিমের সাথে। তিনি বলেন, আমার একজন নিকটাতœীয় অসুস্থ রোগীকে দেখতে কয়েকদফায় গাড়ি পরিবর্তন করে এখন পদুয়ারবাজার এসেছি। এরকম একাধিক লোক তাদের দুর্ভোগের কথা জানান এই প্রতিনিধিকে। এদিকে মহাসড়কে লেগুনা, থ্রিহুইলার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ হলেও গতকাল সোমবার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে এসব যানবাহন। এছাড়াও নসিমনে করেও অনেক লোককে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

বিষয়টি জানতে চাইলে ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, সরকার গণপরিবহন বন্ধের যে নিষেধাজ্ঞাজারী করেছে আমরা সেটা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে ময়নামতি সেনানিবাস এলাকায় মহাসড়কে যাত্রীবাহীবাস, লেগুনা আটক করেছি এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: