ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা নগরীর সেই মিডল্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলায় আবারও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তিন মাস আগে ভুল চিকিৎসায় এই হাসপাতালে শিশু প্রিতমের (৭) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল।

মৃত নবজাতকের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, লাকসামের কৃষ্ণপুর গ্রামের শামসুদ্দিন মজুমদারের প্রসূতি স্ত্রী লুত্ফুন নাহার বুধবার রাতে মিডল্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক করুণা রানী কর্মকারের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। মূলত অধ্যাপক করুণা রানীর পরামর্শেই প্রসূতিকে মিডল্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই ডা. করুণা রানী প্রসূতিকে দেখে বলেন, ‘গর্ভের বাচ্চা সুস্থ আছে। রোগীকে সিজার করাতে হবে না।’ এরপর তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন। তবে রাত আড়াইটায় প্রসূতির প্রসববেদনা ওঠে। কিন্তু অধ্যাপক করুণা রানী কর্মকারকে অনুরোধ করেও হাসপাতালে আনা যায়নি। রাত সাড়ে ৩টায় প্রসব হওয়ার পর দেখা যায় নবজাতক মৃত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, রোগীকে যে ডাক্তারের অধীনে ভর্তি করানো হয়েছে, তিনিই তার দেখভাল করে আসছিলেন অনেক আগে থেকে। সাধারণত তত্ত্বাবধানকারী ডাক্তারই সংশ্লিষ্ট রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করান। কিন্তু ডা. করুণা রানী তা করেননি।

হাসপাতালের অভিযোগ সম্পর্কে ডা. করুণা রানী বলেন, ‘রোগী কয়েক মাস ধরে আমার তত্ত্বাবধানে ছিলেন, তা ঠিক। গতকাল আমি বাসায় যাওয়ার সময় হাসপাতালে দায়িত্বরতদের নির্দেশ দিই আলট্রাসনোগ্রাম করানোর। কিন্তু তারা তা করেননি।’ প্রসূতির ভাই তারেকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘তিন মাস আগে এই মিডল্যান্ড হাসপাতালেই চিকিৎসায় অবহেলায় শিশু প্রিতমের মৃত্যু হয়। আর এবার চিকিৎসায় অবহেলায় মৃত্যু হলো আমার বোনের সন্তানের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আলট্রাসনোগ্রাম না করানোয় এবং ডা. করুণা রানী সিজারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন