ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা টমছম ব্রিজ এলাকা যানজট মুক্ত করতে ২০১১ সালে দক্ষিণ কুমিল্লা এবং ঢাকা-চট্টগ্রামগামী যানবাহনের জন্য নগরীর জাঙ্গালিয়ায় নির্মাণ করা হয়েছিল আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল। কিন্তু বর্তমানে টার্মিনালটির ৭০ শতাংশও ব্যবহার হচ্ছে না। প্রায় সময়ই ফাঁকা থাকে। অধিকাংশ বাস নগরীর জাঙ্গালিয়া থেকে শুরু করে কচুয়া চৌমুহনী পর্যন্ত সড়কের ওপর রেখে যাত্রী উঠানামা ।

এছাড়াও নগরীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে সব ট্রান্সপোর্টের বাস-মিনিবাস স্টপেজ করে যাত্রী উঠানামা করা হচ্ছে। সড়ক বন্ধ করে বাস ঘুরানো হচ্ছে। এর ফলে টমছম ব্রিজ থেকে শুরু করে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এ নিয়ে সিটি কর্পোরেশন এবং পুলিশ প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের সংস্কার কাজ চলছে। টার্মিনালের ভেতরে ঢালাই এবং সীমানা দেওয়ালের নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে এই উন্নয়ন কাজ চললেও এখনও টার্মিনালে ঢুকার পথের সংস্কার হয়নি। গর্ত এবং খানাখন্দে সামনের অংশের বেহাল অবস্থা। বৃষ্টির পানি ও কাঁদায় সড়ক একাকার হয়ে গেছে। পরিবহনে উঠানামা করতে যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। এছাড়া টার্মিনালের যাত্রী ছাউনী এবং কাউন্টারের একমাত্র ভবনের অবস্থাও জরাজীর্ণ। সাম্প্রতিক ভবনের চারপাশে রং করা হলেও প্রকৃতপক্ষে কোনও সংস্কার হয়নি। টয়লেটগুলোতে যাওয়ার কোনও অবস্থা নেই। নিচ তলায় যাত্রীদের বসার কোনও স্থান নেই। পরিবহন শ্রমিক এবং টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি টার্মিনালের উন্নয়ন কাজে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট হচ্ছে।

জানা যায়, ২০-২৫টি ট্রান্সপোর্টের প্রায় ৬শ-৭শ বাস-মিনিবাস টার্মিনাল ব্যবহার করে উপকূল, যমুনা, মদিনা, রয়েল, এশিয়া এয়ারকন, এশিয়া ট্রান্সপোর্ট, প্রিন্স, কুমিল্লা সুপার, দোয়েল, বলাকা, সোহাগ, শাহআলী সুপার, নাঙ্গলকোট সুপার, লাকসাম সুপারসহ ২০-২৫টি পরিবহন রয়েছে। এরমধ্যে উপকূল, রয়েল কোচ, এশিয়া এয়ারকন, এশিয়া ট্রান্সপোর্ট এবং প্রিন্স টার্মিনালের বাইরে গিয়ে নিজস্ব বাসস্ট্যান্ড বানিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে। সড়কের পাশে পার্কিং এবং স্ট্যান্ড করায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

ভুক্তভোগী কয়েকজন যাত্রী বলেন, ‘দ্রুত টার্মিনালের সংস্কার কাজ শেষ করে সড়কের পাশে থাকা স্ট্যান্ডগুলো বাস টার্মিনালে স্থানান্তর করলে যানজট থাকবে না।’

এদিকে জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনালের সার্বিক সমস্যা নিয়ে কুমিল্লা জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ কবীর আহাম্মদ জানান, জাঙ্গালিয়া আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের অধীনে যে পরিমাণ বাস আছে, সেই পরিমাণ জায়গা নেই। অধিগ্রহণ করে বাস টার্মিনালের সীমানা বাড়ানো প্রয়োজন। অধিগ্রহণ করে আয়তন বাড়ানো না হলে সব ট্রান্সপোর্টের বাস এ টার্মিনালে রাখা সম্ভব হবে না। সেই সঙ্গে যাত্রীদের বসার স্থানও করতে হবে।

অধ্যক্ষ কবীর আহাম্মদ আরও জানান, গত বছর টার্মিনালের সংস্কার কাজ উদ্বোধনের সময় আমি এমপি ও সিটি মেয়রের কাছে আমি টার্মিনালের জন্য জমি অধিগ্রহণ দাবি জানিয়েছি। এই সংস্কার কাজের সঙ্গে আরও ৪ কিংবা ৫ একর জমি যুক্ত করা হলে টার্মিনালের আওতাধীন ৬৫% বাস পার্ক করা সম্ভব। এছাড়া টার্মিনালের সামনের সড়কে ফোর লেনের কাজ চলছে। এর জন্যও টার্মিনালের বিশাল একটি অংশ ছেড়ে দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ না করলে সড়কের পাশে থাকা বাস স্ট্যান্ডগুলো টার্মিনালে আসার সুযোগ পাবে না। পরিবহনের মালিকরা বাধ্য হয়ে সড়কে বাস পার্কিং এবং স্টপেজ করছে। জায়গা না পেয়ে বাস স্টপেজ নগরীর পানি উন্নয়ন বোর্ড পর্যন্ত চলে গেছে। সরকারের দেওয়া জায়গা রেখে তাদেরও বিশাল পরিমাণ টাকা ভাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। টার্মিনালে বাস পার্কিং এবং যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা হলে সবাই ব্যক্তিগত স্ট্যান্ড ছেড়ে চলে আসবে আশা করি।

তবে জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা জানান, বাস মালিকরা টার্মিনালের সংস্কার কাজ আরম্ভ হওয়ার আগেই অতিরিক্ত যাত্রীর লোভে টার্মিনাল থেকে বের হয়ে সড়কের পাশে স্ট্যান্ড করেছে। যা অবৈধ। স্টপেজে যাত্রী না নামিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে গিয়ে যাত্রী পরিবহন করছেন এবং সড়ক বন্ধ করে বাস ঘুরাচ্ছেন। এই সবের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশন এবং পুলিশ প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

টার্মিনাল সংস্কার এবং অধিগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনালের সংস্কার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাকী কাজ সড়ক ও জনপথ বিভাগের। আমি আগেও বলেছি এবং কাল আবারও বলবো ফোর লেনের এই অংশের কাজটি যেন দ্রুত শেষ করে। তাদের কাজটি শেষ হলে টার্মিনাল সংস্কারের কাজটি শেষ করতে পারবো।’

অধিগ্রহণ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘টার্মিনাল অধিগ্রহণের বিষয়ে স্থানীয় এমপি ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কয়েক দফা কথা হয়েছে। টার্মিনালের পাশের সম্পত্তিগুলো ব্যক্তি মালিকানা হওয়ায় জায়গার দাম নির্ধারণ করে অধিগ্রহণ করতে হবে। তবে আশা করি খুব তাড়াতাড়ি টার্মিনাল সম্প্রসারণ করে যানজট নিরসন করতে পারবো।