ডেস্ক রিপোর্টঃ বিয়ের এক মাস পেরুতেই গতকাল ২৪শে আগষ্ট শনিবার কুমিল্লার সদর উপজেলার ভাটকেশ্বর( নোয়া পাড়া) গ্রামে গরীব ঘরে জন্ম নেওয়ার অপরাধে হাতে বিয়ের মেহেদির রং মোছার আগেই জামাই, শ্বশুর, শ্বাশুরী ও দেবরের মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারে জুলেখা (২১) নামের এক নববধুকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ !

পরিবারের লোকজন ও অনুসন্ধানে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত এক মাস পূর্বে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা ভাটকেশ্বর ( নোয়াপাড়া) গ্রামের হারুন মিয়ার প্রবাসী ছেলে সোহাগ (৩৫)এর সাথে একেই জেলার সদরদক্ষিণ উপজেলার নগরকান্দি (মেরুয়ালী) গ্রামের হত- দরিদ্র পরিবারের মৃত নূরুল ইসলামের মেয়ের সাথে সামাজিক ভাবে বিবাহ হয়। জানা যায় বিয়ের সময় জুলেখার গ্রামবাসী এবং আত্বীয় স্বজনেরা মিলে চাদাঁ উঠিয়ে যৌতুক হিসেবে জুলেখার জন্য দুই ভরি স্বর্ণলংকার এবং সোহাগের ঘরের ফার্নিচার বাবদ আশি হাজার টাকাদেয়। এছাড়াও জুলেখার শ্বশুর বাড়ীর লোকদের জন্য গত কোরবানীর ঈদে ২০ হাজার টাকার কাপড় ধারদেনা করে মেয়ের সুখের আশায় কিনে দেন জুলেখার মা শাহানারা বেগম শানু।

নিহতের পরিবার ও আত্নীয় স্বজনের অভিযোগ বিয়ের কয়েকদিন না যেতেই জামাই, শ্বশুর, শ্বাশুরী ও দেবর মিলে জুলেখার উপর মানসিক নির্যাতন করতে থাকে এবং জুলেখা গরীব ঘরের মেয়ে বলে জামাই এবং তার শ্বাশুরী বিভিন্ন উচিলা দিয়ে তাকে মানসিক এবং শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা জুলেখাকে মেরে বাথরুমে উড়না পেচিয়ে জুলিয়ে রাখে ।

নিহত জুলেখার নিকটাত্মীয় শামীম, সাংবাদিকদের তিনি জানায় ঘটনার দিন সকাল অনুমান এগারটার দিকে জুলেখার জামাইর বাড়ী এলাকার ইউপি মেম্বার তাজুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানায় তাদের মেয়ে জুলেখা ফাসিঁ দিয়ে মারা গেছে তা শোনে আমরা কয়েকজন জরুরী জুলেখার স্বামীর বাড়ীতে যাই এবং গিয়ে শুনি ততক্ষণে জুলেখাকে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ নিয়ে গেছে। শামীম জানায় জুলেখার মৃত্যু আত্নহত্যা নয় তার ফাসিঁতে জুলানো ছবিই প্রমাণ করে জুলেখাকে মেরে বাথরুমে জুলিয়ে রাখা হয় এবং জুলানো অবস্হায় ছবি তে দেখা যায় তার পা দুটো মেঝেতে বাকাঁ ছিল।জুলেখার মায়ের অভিযোগ, আমার মেয়েকে তারা মেরেছে আমি গরীব মানুষ বলে জুলেখাকে তারা তাড়িয়ে দিতে না পেরে মেরে ফেলেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার কাছে তার মেয়ের হত্যাকারীদের সঠিক বিচার দাবী করেন নিহত জুলেখার মা শাহানারা বেগম।

জুলেখার স্বামীর এলাকায় সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায় প্রবাসী সোহাগ জুলেখার বিয়ের আগেও আরো চারটি বিয়ে করেন এবং সব কয়টি বউকে কোন না কোন উছিলায় মানসিক শারীরিক নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেন। এই ঘটনায় জুলেখার মা বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার একটি এজাহার দায়ের করেন।

এবিষয়ে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারা হক বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে সঠিক কারন জানা যাবে। নিহতের পিতা একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শাশুড়ী কে আটক করা হয়েছে। স্বামী ও দেবর পলাতক রয়েছে।