ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমঘটিত কারণে আরিফ (২১) নামের এক কলেজ ছাত্রকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সে উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আব্দুল কাদির খোকনের বড় ছেলে এবং স্থানীয় মুন্সীরহাট প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান ডিগ্রী কলেজের ডিগ্রী প্রথম বর্ষের ছাত্র।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত আরিফের সাথে দীর্ঘ তিন বছর ধরে পাশ্ববর্তী বারাইশ পশ্চিম পাড়ার সফিকুর রহমানের মেয়ে লিমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় আরিফ মুন্সীরহাট বাজারের ছাত্রাবাস থেকে কোচিং শেষে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ী ফিরছিল।

এসময় পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার উপর আক্রমণ করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় প্রেরণ করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানেও রুগির অবস্থা বেগতিক দেখে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যায় পরিবার।

>>আরো পড়ুনঃ  লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথে যে কোন সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশংকা

পরে ধানমন্ডি নর্দান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে টানা তিন দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে আরিফের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার বাদ আছর জানাযার নামাজ শেষে আরিফের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহতের চাচা রবিউল জানান, আরিফ-লিমার প্রেমের সম্পর্ক জানতে পেরে গত পাঁচ-ছয় মাস পূর্বে লিমার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায় আরিফের মা। এসময় লিমার বাবা আরিফের পরিবারের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিবারের চাপে লিমাও আরিফের সাথে সম্পর্কের ইতি টানে।

কিছুদিন পূর্বে অন্য জায়গা থেকে লিমার বিয়ের জন্য আসলে অজানা কারণে লিমার বিয়েটি ভেঙ্গে যায়। বিয়ে ভাঙ্গার ঘটনায় আরিফকে দায়ী করে লিমার পরিবার বিভিন্ন সময় আরিফকে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে দাবী করে আরিফের স্বজনরা

>>আরো পড়ুনঃ  মুরাদনগরে জনসচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই আরিফ হোসেন জানান, নিহতের ঘটনায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের করা হয়নি।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ