মো. জাকির হোসেনঃ কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষèীপুর গ্রামের শতাধিক একরের ফসলী জমির পাশে একটি ইটভাটা চালু হওয়ায় ফসল রক্ষায় শতাধিক কৃষক জেলা প্রশাসন,পরিবেশ অধিদপ্তর,উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করার পরও কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম হতাশ কৃষকরা। জমির মালিকরা আরো জানান,ইটভাটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়াসহ নানা হুমকী দিচ্ছে। এঅবস্থায় আতঙ্কগ্রস্থ রয়েছে জমির মালিকরা।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ফসলী জমির পাশে ইটভাটা নির্মানে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের লক্ষèীপুর, খোয়াইশ, গলিয়ারা, কমলপুর, দক্ষিণ আনন্দপুর গ্রামের তিন ফসলী জমির পাশেই গড়ে উঠেছে একটি ইটভাটা। স্থানীয় লক্ষèীপুর গ্রামের শাহ আলম, জসিম, দেলোয়ার, খেয়াইশ গ্রামের হুমায়ুন কবীর, আব্দুল গণী, আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান, আনন্দপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান,দুলাল মিয়া, গিয়াস উদ্দিন প্রমূখের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গলিয়ারা ইউনিয়নের লক্ষèীপুর গ্রামের তিন ফসলী জমির একপাশে সম্প্রতি চালু হয়েছে রোকেয়া ব্রীকস্ নামের একটি ইটভাটা। এর তিন পাশজুড়ে রয়েছে প্রায় শতাধিক একর ফসলী জমি। বন্যা বা জলাবদ্ধত্ ানা থাকায় বংশ পরম্পরায় এখানকার মানুষ পুরো বছর ধরে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে আসছে। তিন ফসলী এই জমির উৎপাদিত ধানেই এখানকার কৃষক পরিবারের লোকজন তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে যুগ যুগ ধরে। বিগত ২০১৮ সালে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বালুতুপা সংলগ্ন চাঁপাপুর গ্রামের আলী আশ্রাফ নামের এক ব্যক্তি প্রথমে কিছু জমি ক্রয় করে। পরে সেখানে ইটভাটা নির্মানের কাজ শুরু করে।

স্থানীয় লক্ষèীপুর, খোয়াইশ, গলিয়ারা, কমলপুর, দক্ষিণ আনন্দপুর গ্রামের শতাধিক জমির মালিক স্বাক্ষরসহ জেলা প্রশাসন , পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ইটভাটা বন্ধের লিখিত আবেদন করে। কিন্তু সব আবেদন নিবেদন উপেক্ষা করে ইটভাটা মালিকপক্ষের লোকজন এরই মাঝে চুল্লী নির্মানসহ পুরোপুরি ইটভাটা চালু করে ফেলে। এতে স্থানীয় কৃষকরা তাদের ফসলহানীর আশঙ্কা করছেন।

লক্ষèীপুর গ্রামের আব্দুর রহিম জানান, ইটভাটার চারপাশের গ্রামগুলোতে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস। গ্রামের প্রতিটি বাসা-বাড়িতে রয়েছে আম,জাম,কাঠাল,নারকেল,পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ। ইটভাটার ধোঁয়ায় ধানের পাশাপাশি ফলের উৎপাদন কমে যাবে । এছাড়াও এখানে গো-খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন জমির মালিক পক্ষের লোকজন। এদিকে ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগের পর ইটভাটার মালিক পক্ষের লোকজন জমির মালিক পক্ষের লোকজনদের নানাভাবে হুমকী দিচ্ছে বলেও কৃষকরা জানান। ফসল,পরিবেশ ক্ষতির আশঙ্কায় থাকা কৃষকরা আরো জানান, একটি ইটভাটা নির্মানে প্রথমেই যে শর্তটি পূরণ করতে হবে,সেটা হচ্ছে কোনভাবেই ফসলী জমির পাশে এটা স্থাপন করা যাবেনা। অপেক্ষাকৃত অনুর্বর বা পরিত্যক্ত জমিতে ইটভাটা নির্মানের নির্দেশনার বাইরে কিভাবে ৩ ফসলী জমির চারপাশজুড়ে ইটভাটা নির্মানের অনুমতি দিল পরিবেশ অধিদপ্তর সেটা কোনভাবেই বোধগম্য হচ্ছেনা। অথচ একটি ইটভাটা চালু করতে প্রথমেই পরিবেশ অধিদপ্তর সম্ভাব্যতা যাচাই করে এর অনুমতি দিতে হয়। এঅবস্থায় কি কারণে ফসলী জমি ঘেরা মাঠের পাশে ইটভাটা চালু’র অনুমতি দিল সেটা বন্ধে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় এক জনসভায় যত্রতত্র শিল্পকারখানা স্থাপনের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করে বলেছেন,যেখানে সেখানে শিল্প কারখানা করতে দেওয়া হবেনা। এসময় তিনি আরো বলেছেন,আমরা শিল্পায়ন করবো,আমরা উন্নত হব,শিল্পায়নে যাব,কিন্তু কৃষি ও কৃষককে ত্যাগ করে নয়। কৃষি জমি নষ্ট করে শিল্পায়ন করা যাবেনা।

ফসলী জমির পাশ ঘিরে ইটভাটা চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান সরকার বলেন, এই ইটভাটা যদি জনস্বার্থের পরিপন্থি বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিব।