বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় মহামারির নাম করোনা ভাইরাস। আর এ ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা সেটা নির্ণয়ের জন্য কুমিল্লায় তথা আশেপাশের ৫টি জেলায় নেই কোন আধুনিক ল্যাবরেটরি। করোনা ভাইরাস পরীক্ষার একমাত্র বায়োসেফটি লেভেল-থ্রি ল্যাবরেটরি স্থাপন করা যেতে পারে কুমিল্লায় জেলায় । এ জেলার ১৭টি উপজেলার প্রায় ৬০ লাখ মানুষসহ চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনীসহ ৬ জেলার প্রায় দেড় কোটিরও বেশী লোকের করোনা পরীক্ষায় ভরসার স্থল হতে পারে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। স্বাভাবিক সময়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জটিল রোগ নিয়ে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসে এই ৬ জেলার রোগাক্রান্ত মানুষ। অনেকেই রোগ নিরাময় শেষে বাড়ি ফিরে যান। রাজধানী ঢাকা এবং বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান কুমিল্লার। এছাড়া আশেপাশের জেলাগুলোর সাথে সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে এ জেলার। কিন্তু এখানে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের পরীক্ষার নেই কোন ব্যবস্থা। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই করোনা পরীক্ষার জন্য এ সকল জেলার রোগীরা ছুটতে হচ্ছে রাজধানী ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের দিকে। এতে বিড়ম্বনার পাশাপাশি অপচয় হচ্ছে সময় আর বাড়ছে ব্যয়। অথচ কুমিল্লায় একটি বায়োসেফটি লেভেল-থ্রি ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হলে সহজেই লোকজন অল্প সময়ে পরীক্ষা সেরে বাড়ি ফিরে যেতে পারতো।

একান্ত সাক্ষাৎকারে সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, বায়োসেফটি লেভেল-থ্রি ল্যাবরেটরি স্থাপনে অনেক অর্থের প্রয়োজন। এমনিতেই কুমিল্লা একটি বড় প্রশাসনিক জেলা। এ জেলায় স্থাপিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালীর ৬ জেলাকে কেন্দ্র করে বায়োসেফটি লেভেল-থ্রি ল্যাবরেটরি গড়ে উঠতে পারে। এই মেডিকেল কলেজে একটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিটি স্থাপন এখন সময়ের দাবি। আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি, তিনিও এতে সায় দিয়েছেন। কুমিল্লায় আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য উধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করছি আগামীতে বায়োসেফটি লেভেল-থ্রি ল্যাবরেটরি হয়ে যাবে। করোনা পরিস্থিতিতে ডাক্তারদের সুরক্ষার পিপিই পাওয়া গেছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পিপিই সন্তোষজনক সংখ্যায় পাওয়া গেছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: