ডেস্ক রিপোর্টঃ বিলের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মরদেহ আট ঘণ্টা আটকে রাখা হয় হাসপাতালে। পরে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে কুমিল্লার বেসরকারি ওই হাসপাতাল থেকে মরদেহ ছাড়িয়ে নেন স্বজনরা। চিকিৎসা খরচ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে লাশ জিম্মি (আটকে রাখা) করে রাখা যাবে না বলে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকার পরও এ ঘটনা ঘটল।

জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামের হুমায়ুন করীরের ছেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক কবীর হোসেনকে (৩০) কুমিল্লা টাওয়ার নামে পরিচিত কুমিল্লা মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও টাকার জন্য তাকে আইসিইউতে ভর্তি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এত খরচের বিষয়ে তারা দরিদ্র কবীর হোসেনের স্বজনদেরও জানায়নি বলে দাবি তাদের। গতকাল শনিবার সকাল ৭টার দিকে আইসিইউতে তিনি মারা গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করতে বলে। এত বিশাল অঙ্কের বিল দেখে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক জায়গা, সিটিতে আছে করপোরেশনে নেই!

এদিকে ওই টাকা ছাড়া হাসপাতাল থেকে মরদেহ ছাড়বে না জানালে স্বজনরা নগরীর পদুয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকাসহ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এতেও মহদেহ দিতে না চাইলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে পরে বিকাল ৩টায় মরদেহ ছাড়িয়ে নেন স্বজনরা।

মৃতের চাচা মো. আবদুস সালাম ও আত্মীয় কামরুজ্জামান জীবন বলেন, গত কোরবানির ঈদের পর দিন রোগ ধরা পড়ে কবীর হোসেনের। তার ব্লাড ক্যানসার হয়েছিল। এ রোগের চিকিৎসা কুমিল্লায় নেই জেনেও তারা রোগীকে এতদিন আটকে রাখে। মারা যাওয়ার পর এত টাকার বিল দেখে আত্মীয়রা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। পরে মানুষের কাছ থেকে দিনভর অনেকটা ভিক্ষার মতোই টাকা তুলে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে এনে বিকালে দাফন করা হয়।

>>আরো পড়ুনঃ  বুড়িচংয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো খানাখন্দে ভরা, জন দূর্ভোগ চরমে

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। মৃত ব্যক্তির স্বজনরা অভিযোগ করলে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো মতামত পাওয়া যায়নি।

চিকিৎসা খরচ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে লাশ জিম্মি (আটকে রাখা) করে রাখা যাবে না বলে হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি নির্দেশনা জারি করেন। হাইকোর্টের এ নির্দেশনা অবহিত করে সব ক্লিনিক ও হাসপাতালের প্রতি সার্কুলার জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে রোগীর চিকিৎসা খরচ বহন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি তহবিল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিট আবেদন করা আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসাইন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে এ নির্দেশ দেন।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লার মহাসড়কে অটোরিকশার অবাধ চলাচল, বাড়ছে দুর্ঘটনা

সূত্রঃ আমাদের সময়