কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) যৌ’ন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় ইংরেজি বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে এবার লিখিতভাবে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন তার বিভাগের সহকর্মীরা। অভিযুক্ত ইংরেজি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে তার ১০ সহকর্মী শিক্ষক এই অনাস্থা ও অসহযোগিতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের বরাবর দেয়া এক অনা’স্থাপত্রে শিক্ষকেরা উল্লেখ করেন, ‘আমরা ইংরেজি বিভাগের নিম্ন স্বাক্ষরকারী শিক্ষকেরা জানাচ্ছি যে- আমরা এই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে কতিপয় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে পূর্ণ অনাস্থা জ্ঞাপন ও অসহযোগিতা প্রকাশ করছি।’

অভি’যোগসমূহের মাঝে শিক্ষকেরা উল্লেখ করেন, ‘গত ১৫ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে সন্ধ্যাকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীর সাথে যৌ’ন হয়রানির অভিযোগ উঠার পর তিনি গত ১৯ জানুয়ারি কুমিল্লা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বিভাগের তিনজন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং একজনকে ইন্ধনদাতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার বেশিরভাগ বক্তব্যই ছিল বা’নোয়াট ও মানহানিকর। আমরা মনে করি, এতে তিনি এই বিভাগের মান-সম্মান ও ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন। তার এই আচরণে আমরা ক্ষুব্ধ। পাশাপাশি তিনি কখন কার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ দিয়ে বসেন তা ভেবে নিজেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

ওই শিক্ষকেরা আরও উল্লেখ করেন, গত ২১ জানুয়ারি এই বিভাগের একাডেমিং কাউন্সিলের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষকের নতুন আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করে ওই দুই শিক্ষকের কাছে জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়ার কথা। পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে তার দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা। কিন্তু তিনি তা করেননি। বিভাগীয় প্রধান হিসেবে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করার প্রতিবাদ জানান তারা। এছাড়াও আরো কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভি’যোগ এনে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক মোহাম্মদ আকবর হোসেন জানান, ‘আমরা দুজন শিক্ষক যে মান’হানির অ’ভিযোগ করেছিলাম সে ব্যাপারেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এমনকি তদন্ত কমিটিও হয়নি। দুজন শিক্ষকের মান-মর্যাদার বিষয় যেখানে সম্পৃক্ত সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা কেন নিচ্ছে না তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।’

ভুক্তভোগী অপর শিক্ষক ড. হাবিবুর রহমান জানান, ‘আমরা অভি’যোগ দেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবেন জানিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন ,েয সমাবর্তনের ব্যস্ততায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। এখন দেখবেন।’

বিভাগীয় প্রধানের প্রতি অনাস্থা প্রসঙ্গে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর হোসেন জানান, ‘বিভাগীয় প্রধানের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে এবং এ ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে বিভাগের ১০ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত অভি’যোগ গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও প্রতিকার চাই।’

অভিযুক্ত শিক্ষক ইংরেজি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদারকে ফোন করা হলে তিনি ‘পরে কথা হবে’ বলে ফোন রেখে দেন।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের থেকে বিভাগীয় প্রধানের প্রতি অনা’স্থা জ্ঞাপন এবং ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন পেয়েছি। বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে যদি বিভাগের সকল শিক্ষক অনা’স্থা দেখান, তাহলে তো এটা উদ্বেগের বিষয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে যৌ’ন হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গটিও তদন্তাধীন রয়েছে। বিভাগের শিক্ষকরা এ নিয়ে উপাচার্যের সাথেও দেখা করেছেন। রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: