কুমিল্লা নগরীর অন্যতম প্রবেশদ্বার শাসনগাছা। শাসনগাছায় রেল ক্রসিংয়ের যানজট নিরসনে ৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৩১.২৯ মিটার দৈর্ঘ্যর ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হয়। ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হলেও ফ্লাইওভারের নিচে ভাঙা সড়ক- ফুটপাত দখল, কাদাপানি আর যানজটে চরম ত্যক্ত-বিরক্ত সাধারণ পথচারীরা। ফ্লাইওভারের নিচের পুরো অংশটার দুর্ভোগকে অনেকে নরক যন্ত্রণা বলে উল্লেখ করেছেন।

সরেজমিনে নগরীর শাসনগাছা ফ্লাইওভারের নিচে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস আটকে আছে ফ্লাইওভারের সরুগলিতে। শাসনগাছা বাস স্ট্যান্ডজুড়ে এলামেলো দাঁড়িয়ে আছে যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মাইক্রেবাস ও প্রাইভেটকার। একচুল নড়াচড়া করতে পারছে না বাহনগুলো। ট্রাফিক পুলিশকে অসহায়ের মত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

নাম না প্রকাশ করা শর্তে একজন বাস চালক বলেন, পৌনে দুই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চলে আসছি। কিন্তু আধঘণ্টা লাগছে ফ্লাইওভারের পশ্চিমপাশ থেকে শাসনগাছা কাউন্টারে বাসটাকে নিয়ে যেতে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সময় লাগে ফ্লাইওভারের নিচের জায়গা পার হতে। এত গাড়ি এই সরু রাস্তা দিয়ে কেমনে পার হয়? তার ওপর ভাঙা রাস্তা। বাস একবার এদিক কাইত অয় তো একবার ওই দিকে কাইত হয়। কী যে যন্ত্রণায় আছি!

পাপিয়া পরিবহনের বাস যাত্রী ব্যাংকার খলিলুর রহমান। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টায় আসেন। বাসে উঠলেই যানজট পার হয়ে শাসনগাছা থেকে বের হতে গড়ে ২০/৩০ মিনিট লাগে। তারপর চান্দিনা তার কর্মস্থলে পৌঁছান। শুধু শাসনগাছা ফ্লাইওভারের নিচে যানজটের জন্য সঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারেন না।

ফ্লাইওভারে দু’পাশে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। সরু পথ দিয়ে যাত্রীবাহী বাস এক দিয়ে প্রবেশ করলে অন্যদিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে যাত্রীবহনকারী বাহন। ফুটপাতজুড়ে হকারদের দখল। বিশেষ করে বাদশামিয়া বাজার মোড়ে পুরোটাই হকারদের দখলে। ক্ষণে ক্ষণে যানজট সৃষ্টি হয় । এছাড়াও ওই মোড়টিতে রয়েছে একটি সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। হকার আর সিএনজি অটোরিকশার দখলে বাদশা মিয়া বাজারের মোড় অংশটি। যানজট লাগলে ওই সড়ক দিয়ে পথচারীদের হাঁটাচলা করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে।

আবু হানিফ নামের একজন সিএনজি অটোরিকশার চালক জানান, বাদশা মিয়া বাজার মোড়ে প্রতিদিন আমরা টাকা দেই। তাই এখান থেকে যাত্রী তুলে পারাপার করি। কে নেয় এই টাকা এমন প্রশ্নে আবু হানিফ জানান, তাদের নাম বলতে পারবো না। টাকা দেই-টোকেন দেয়।

ফ্লাইওভারের নিচে যানজট নিয়ে ট্রাফিক পরিদর্শক কামাল উদ্দিন বলেন, পুরো ফ্লাওভারের নিচে সরু ও ভাঙাচোরা রাস্তা। ফুটপাত দখল করে আছে হকার। এমন সমস্যায় কিভাবে যানজট নিরসন করা যায়। ট্রাফিক পরিদর্শক কামাল উদ্দিন আরো বলেন, তিনি সড়ক সংস্কার ও অবৈধ হকার উচ্ছেদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার বলেছেন। সড়ক সংস্কার না হলে শাসনগাছা ফ্লাইওভারের নিচে কখনও যানজট হ্রাস করা সম্ভব হবে না।

কলেজ শিক্ষিকা আফরোজা শাহিন জানান, তার বাসা ঠাকুরপাড়া। কর্মস্থল বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রি কলেজ। শাসনগাছা এলে কাদাপানি মাড়িয়ে যেতে হয়। পরিপাটি পোশাকে কলেজে যেতে পারেন না। শহর থেকে কাদা নিয়ে গ্রামে যেতে হয়। পোড়া মবিল- তেলের সাথে কাদাপানি মিশে একাকার।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. আহাদ উল্লাহ বলেন, সড়ক সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। তবে শাসনগাছা এলাকায় যানজট হ্রাস করতে হলে বাস্ট্যান্ডটিকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। এর বিকল্প নেই।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: