কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ২১৯টি পদের মধ্যে ১৩৩টিই শূন্য। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে লোক না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। খণ্ডকালীন লোক দিয়ে বোর্ডের গোপনীয় কাজও করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. নূর মোহাম্মদ বলেন, ১৯৬২ সালের ২ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫টি জেলা নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের যাত্রা শুরু হয়। এখন কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলা নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড।

বর্তমানে কুমিল্লা বোর্ডে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২১৯। এর মধ্যে শূন্য রয়েছে ১৩৩টি। প্রথম শ্রেণির ২৪টি পদের মধ্যে ৬টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ১৯টি পদের মধ্যে ১১টি, তৃতীয় শ্রেণির ১১৫টি পদের মধ্যে ৮৬টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ৬১টি পদের মধ্যে ৩০টি পদ শূন্য। প্রথম শ্রেণির পদগুলোর মধ্যে তথ্য কর্মকর্তা, ক্রীড়া কর্মকর্তা, অডিট অফিসার, প্রোগ্রামার, সহকারী প্রোগ্রামার ও সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারের একটি করে পদ শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণির পদের মধ্যে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকের তিনটি, সহকারী সচিব, সহকারী কলেজ পরিদর্শক, একান্ত সচিব (চেয়ারম্যান), সহকারী ক্রীড়া কর্মকর্তা, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সহকারী গ্রন্থাগারিক, উপসহকারী প্রকৌশলী ও ডেটা এন্ট্রি কম্পিউটার অপারেটরের একটি করে পদ খালি রয়েছে।

বোর্ডের সচিব বলেন, ‘জনবলের অভাবে আমাদের কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, তথ্য, ক্রীড়া, প্রকৌশলী, একান্ত সচিব, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সহকারী গ্রন্থাগারিকের পদগুলো শূন্য থাকায় বোর্ডের সার্বিক কাজের ওপর চাপ পড়ছে। একজন উপসচিব (একাডেমিক) দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত ক্রীড়া কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এক যুগ ধরে ক্রীড়া কর্মকর্তার পদ শূন্য। তথ্য কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় বোর্ডে সেবা নিতে এসে মানুষকে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৬ মে জনবল শূন্যের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণির ৭টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৮টি, চতুর্থ শ্রেণির ২৭টিসহ ৪২টি পদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়। তবে তৃতীয় শ্রেণির ১৪টি পদ কমানোর কথাও বলা হয়। সব মিলিয়ে ২১৯টি পদ থেকে ২৪৭টি পদ করার আবেদন করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বোর্ডে সেবা নিতে আসেন লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, কুমিল্লা বোর্ডে নাগরিক সেবা খুবই কম। কোন কক্ষে কোন ধরনের ফরম জমা নেওয়া হবে, কার কাছে জমা দিতে হবে, এর কোনো তালিকা নেই। এখানে ফ্রন্ট ডেস্ক থাকা দরকার। তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা থাকা দরকার।

বোর্ডের অন্তত তিনজন কর্মকর্তা–কর্মচারী বলেন, এখানে ডেটা অপারেটরসহ কম্পিউটার শাখায় লোকের সংখ্যা কম। অবিলম্বে শূন্য জনবলের পদ পূরণ করে সেবাপ্রত্যাশীদের দুর্ভোগ কমাতে হবে। খণ্ডকালীন লোক দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করাতে হচ্ছে।

বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুস ছালাম বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শূন্য পদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় লোকবল নিয়োগ দিলেই শূন্য পদ পূরণ হবে। আমরা প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পদ বাড়ানোর আবেদন করেছি। তৃতীয় শ্রেণিতে কমাতে বলেছি। ৫৮ বছরের পুরোনো বোর্ড। যাঁরা অবসরে যান, তাঁদের পদ দীর্ঘদিন ধরেই খালি পড়ে আছে।’

সূত্রঃ প্রথম আলো

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: