মাসুদ আলমঃ দেশব্যাপী টেকসই স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষ যখন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে। সেখানে কুমিল্লার নগরীতে এখনও বিদ্যমান রয়েছে ভাসমান স্যানিটেশন ব্যবস্থা। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ডের পূর্ব কাজীপাড়া এলাকার মিঞি বাড়ির সড়কের পাশে ভাসমান স্যানটেশনটি পাবলিক টয়লেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। খোলা পরিবেশে মলত্যাগের ফলে ওই এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে রোগজীবাণু। আধুনিকায়নের এই যোগে সিটি কর্পোরেশনের মত এলাকায় রাস্তার পাশে ভাসমান স্যানিটেশন ব্যবহারে দুঃখপ্রকাশ করেছে নগরীর সচেতন নাগরিক। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের দায়িত্ব অবহেলা এবং মেয়রের তদারকি নিয়ে সমালোচনা করেছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাসমান স্যানিটেশনের (পাবলিক টয়লেট) তিন পাশ কাপড়ে মোড়ানো। প্রবেশ পথে দেওয়া হয়েছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বস্তা। উপরে নেই ছাউনি। কোন ধরনের সেফটি ট্যাংক নেই। ত্যাগের পর পাশের ছোট্ট একটি গর্তে মলগুলো প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবেই সড়কের পাশে খোলামেলা পরিবেশে ভাসমান স্যানিটেশনটি ব্যবহৃত হচ্ছে গণহারে।

আবুল কাশেম নামে এক পথচারী জানান, খোলা পরিবেশে মলত্যাগের ফলে হালকা বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। নাকে কাপড় দেওয়া ছাড়া চলাচল সম্ভব হয়। আশপাশের পরিবেশ দূষণ হয়ে পড়ে। এছাড়া গৃহপালিত হাঁস-মুরগি নাড়া নিয়ে দুর্গন্ধ আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে।
পাশ^বর্তী মীর হোসেন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ভাসমান টয়লেটের কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষকে জানানলে তারা উল্টো প্রতিবাদ করতে আসে। তাই মান সম্মানের ভয়ে কোন প্রতিবেশি প্রতিবাদ করেন না।

২০ নং ওয়ার্ডে ভাসমান স্যানিটেশন ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে স্থানীয় কাউন্সিলর মোঃ সিদ্দিকুর রহমান সরুজের মোবাইল ফোনে ডজন খানিক কল দিয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, সড়কের পাশে খোলামেলা পরিবেশে ভাসমান স্যানিটেশন ব্যবস্থা বর্তমান পরিবেশে কল্পনা করা যায় না। আমি একজন মেয়র কিভাবে ২৭টি ওয়ার্ডের সব বিষয়ের উপর খোঁজ রাখবো। স্থানীয় কাউন্সিলররা এই ধরণের ছোট খাটো বিষয়গুলো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। তারপরও আমরা খোঁজ নিয়ে এই ভাসমান স্যানিটেশনের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।