ভীমরুলের প্রাণ নিল ১ শিশুর, অপর আহত (নিহত শিশুর) মা- ভাই, খালা, খালাতো বোন সহ ৪ জনকে ঢাকা সি.এম.এইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার বিকেল ৩টায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ১৬ নং মোহনপুর ইউনিয়নের কুরুইন গ্রামের শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে। ওই সময় ভীমরুলের কামড়ে দুই পরিবারের ৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে হাফসা নামে সাড়ে ৩বছর এক শিশুকে কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত: ঘোষণা করেন। অপর আহত ৪ জনকে দ্রুত ঢাকা সি,এম,এইচ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। ওই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহত শিশুটির নাম হাফসা খাতুন, বয়স সাড়ে তিন বছর। তার বাবা উপজেলার কুরুইন গ্রামের জাকির হোসেন, পেশায় চারিজীবী। তিনি একটি বেসরকারী সংস্থা ‘বিসিডি’র চাঁদপুর জেলা কর্মকর্তা।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেল ৩টায় জাকির হোসেন’র শালিকা উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের সেনা সদস্য মোস্তফা কামাল’র স্ত্রী সাহিনা আক্তার তার সাড়ে ৩ বছর বয়সী কণ্যা আশ্রাকে নিয়ে কুরুইন গ্রামের জাকির হোসেন’র স্ত্রী বোন লাকি আক্তারের বাড়িতে বেড়াতে আসেন।

বাড়ির উত্তর পাশে আসার পর তারা হঠাৎ ভীমরুলের আক্রমনের শিকার হন, তাদের চিৎকারে ছুটে আসেন সাহিনা আক্তার’র বোন লাকি আক্তার, তার ছেলে সিহাব উদ্দিন (১০), কণ্যা হাফসা খাতুন (সাড়ে ৩বছর)। তারাও ভীমরুলে আক্রমনে মারাত্মক আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাদের প্রথমে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আশংকাজনক অবস্থায় হাফসাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত: ঘোষণা করেন।

অপর দিকে নিহত হাফসানার বাবা জাকির হোসেন ও খালু সেনা সদস্য মোস্তফা কামাল এসে আহত ৪ জনকে নিয়ে ঢাকা সি.এম.এইচ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। এদিকে আজ সকালে হাফসানাকে তার নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করা হয়। আহতদের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা যায়।

কুরুইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খোরশেদ আলম জানান, নিহত হাফসারের ভাই সিহাব উদ্দিন কুরুইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র, তার বাবা একটি বেসরকারী সংস্থায় চাঁদপুরে চাকরি করেন। খালু এলাহাবাদ গ্রামের মোস্তফা কামাল সেনা সদস্য হওয়ায় তারই সহযোগীতায় আহতদের ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন।

কণ্যার দাফন সম্পন্ন করে রোববার সন্ধ্যা ৭টায় এ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকা যাওয়ার পথে সেল ফোনে যোগাযোগ করলে শোকাহত কন্ঠে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মোঃ জাকির হোসেন বলেন, মেয়ের দাফন সম্পন্ন করেছি। আহত চার জনের অবস্থা আশংকা জনক বলে শোনেছি, তাই সি.এম.এইচ. হাসপাতালে যাচ্ছি।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: