দেশের সমালোচিত রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে বুধবার ভোরে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করেন এ প্রতারক। এ জন্য দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে পালিয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতারের পর সাহেদকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার র‌্যাব দফতরে আনা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেশের মধ্যে পালিয়ে থাকা স্থানগুলোর নাম জানিয়েছেন সাহেদ।

সাহেদ র‌্যাবকে জানান, গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলার সময় কক্সবাজারের মহেশখালিতে অবস্থান করেছিলেন তিনি। সেখানে স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় একটি সাইক্লোন সেন্টারে ছিলেন। পরে সেখানে নিজেকে নিরাপদ মনে না করে কুমিল্লার মীরা বাজারে চলে যান। পরে ১২ জুলাই ঢাকার গুলশানে চলে আসেন সাহেদ।

ঢাকায় গ্রেফতারের সম্ভাবনা থাকায় সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকায় চলে যান। সেখানকার দালালদের সহযোগিতায় ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। আর যাতায়াতে পায়ে হেঁটে ও গণপরিবহন ব্যবহার করেন তিনি। তবে গোয়েন্দাদের তৎপরতায় বুধবার ভোরে ধরা পড়েন তিনি।

এদিকে সাহেদের রিজেন্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অফিস দখলে রাখা, আর মাসের পর মাস ভাড়া বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে। মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে এখনো অর্ধকোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি ভবন মালিকের। আর উত্তরায় রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের ভাড়া বকেয়া রয়েছে আট মাসের। উত্তরা শাখা সিলগালা করে দেয়ার পর রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর শাখাও এখন বন্ধ।

উত্তরা রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, আমরা শুরুতে ভুয়া টেস্টের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু এখন দিন যতই যাচ্ছে দেখছি অসংখ্য জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল সাহেদ। যাদের সঙ্গে তার ব্যবসা ছিল, তাদের সঙ্গেই প্রতারণা করেছে। অভিযানের পর অসংখ্য মানুষ আমাকে কল করে তার প্রতারণার ফিরিস্তি তুলে ধরছে।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: