ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা শহরতলীর ধর্মপুর পশ্চিম চৌমুহনী সংলগ্ন চম্পকনগর দক্ষিণপাড়ায় (মেইন রোডের সাথে) বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতায় উদ্বোধন করা হয়েছে কুমিল্লা চ্যাম্পিয়ন স্কুল। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাভার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সিইও উপসচিব মো. বশিরুল হক ভূঁইয়া, প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী মো: মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ৩নং দক্ষিণ দুর্গাপুর মডেল ইউনিয়ন ও কেটিসিসিএ লি: এর নন্দিন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: আমিনুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: ফরহাদ হোসেন ভূঁইয়া, ঢাকা পল্লী বিদ্যুতায়তন বোর্ডের ডিজিএম মো: আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, গোল্ড সিলভার হোমস্ লি: এর পরিচালক রোটা. মো. জহিরুল কবির, আইটি প্যালেস এর স্বত্ত্বাধিকারী মো. নজরুল আমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন ফিউচার লিডার স্কলারশীপ ২০১৯ এর চেয়ারম্যান বদরুল হুদা জেনু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, শিক্ষার আলো জীবনের অংশ। নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্তি পেতে হলে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে হবে।
প্রধান আলোচক প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী মো: মুজিবুর রহমান বলেন, সমাজে দুর্নীতির মূল কারন হচ্ছে সুশিক্ষার অভাব। সুশিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবেই সমাজে অনাচার ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। একটি অস্থির সময়ে আমরা বসবাস করে যাচ্ছি। বর্তমান সময়ে ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সহ বড় বড় কর্মকর্তা হচ্ছেন কিন্তু দেশে শৃঙ্খলা নেই। কারন এখন অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বই মুখস্থ করে থাকেন। পড়ালেখা মুখস্থ করার বিষয় নয়, উপলব্দির বিষয়। শিক্ষা মানুষের অন্তরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে। সাবান জামা-কাপড় ও ময়লা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে। সাবান যদি ভালো না হয় তাহলে জামা-কাপরড় বা ময়লা পরিষ্কার হবেনা। তদ্রুপ সঠিক শিক্ষা না হলে মানুষের অন্তর বা হৃদয় পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন হয়না। ভালো তথা সঠিক শিক্ষা না হলে সমাজের অস্থিরতা দুর করা যাবেনা। ধর্মীয় মূল্যবোধ থাকলে সমাজেরে অপরাধ কমে যাবে। সে ক্ষেত্রে সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। বাচ্চাদের হাতে স্মার্টফোন দেয়া যাবেনা। যদি একেবারেই না দেয়া সম্ভব হয়, তাহলে অল্প সময়ের জন্য দিতে হবে। শুধুমাত্র অংক, ইংরেজি বা পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেই যে সন্তান মেধাবী বিষয়টা এমন না। মানুষের নানা ধরনের প্রতিভা থাকে। অনেকে খেলাধূলায়, আবৃত্তি, অভিনয়, গান ভালো করতে পারে, তারাও মেধাবী। সন্তানদের প্রতিদিন সময় দিতে হবে, সঙ্গ দিতে হবে। তারা বাবা মার কাছে যে শুধু টাকা পয়সা বা গিফট চায় এমন না! তারা আপনার কাছে সময় চায়। জিপিএ-৫ না পেলে সন্তানদের তিরস্কার করা যাবে না। তাদের সময় দিতে হবে, খারাপ সময়ে পাশে থাকতে হবে। ফলাফল খারাপকে কেন্দ্র করে অনেকে আত্মহত্যা করেন। তার মূল কারন হচ্ছে সামাজিক ও পারিবারিক ভয়। তাই এসব দুর্বল সময়ে সন্তানদের বা শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়াতে হবে। সুশিক্ষা মানুষের মৌলিক আচরনের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায়। মানুষকে সংবেদনশীল করে। শিক্ষার্থীদের সংবেদনশীল করে এমন শিক্ষাই দরকার। তিনি বলেন, এমন মানুষ চাই যারা মানুষের প্রতি সংবেদনশীল হবেন, বাংলাদেশকে ভালবাসবেন, দেশের ইতিহাসকে জানবে, মানচিত্রকে বুঝবে ও জানবে, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুকে সম্মান করবে, শহীদদের সম্মান করবে, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠবে। সর্বোপরি একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

কুমিল্লা চ্যাম্পিয়ন স্কুল একটি স্লোগানকে ধারণ করে পথচলা শুরু করেছে। স্লোগানটি হচ্ছে ‘সুনাগরিক তৈরির নিরলস প্রয়াস..’। একদল দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলি দ্বারা প্রতিষ্ঠানটি চলছে। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর। ইতিমধ্যে মানসম্মত শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অভিভাবকদের মাঝে আস্থা অর্জন করেছে। শিক্ষার্থীরা এখানে শুধু পাঠ্যপুস্তক নির্ভর শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা, পাশাপাশি গান, আবৃত্তি, খেলাধূলা ও অভিনয় সহ নৈতিক বিষয়গুলো শিখবে।

অনুষ্ঠনে আরো বক্তব্য রাখেন, চ্যাম্পিয়ন স্কুলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইকরামুল হাসান ইথার। স ালনায় ছিলেন, জয়নাল আবেদীন রনি। অন্যান্যদের মাঝে আরো উপস্থিত ছিলেন, কাউন্সিলর ইমরান বাচ্চু, ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মো: রুবেল হোসেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা, আইআর আশিক আহম্মেদ শাহীন, ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী সোহাগ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে কুমিল্লার খ্যাতনামা ২৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে ফিউচার লিডারশীপ বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১০১ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট প্রদান করেন অতিথিরা।
ক্যাপশন: গতকাল শুক্রবার কুমিল্লা শহরতলীর ধর্মপুর পশ্চিম চৌমুহনী সংলগ্ন চম্পকনগর দক্ষিণপাড়ায় (মেইন রোডের সাথে) ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে কুমিল্লা চ্যাম্পিয়ন স্কুল এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাভার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সিইও উপসচিব মো. বশিরুল হক ভূঁইয়া, প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী মো: মুজিবুর রহমান সহ অন্যান্য অতিথিরা।