ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় একই পরিবারের মাদক ব্যবসায়ী তিন ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তিন ভাই “দেলোয়ার হোসেন (দেলু), আনোয়ার হোসেন ও মো. উজ্জল মিয়ার” বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলতে চেষ্ঠা করলেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে তারা। এমন অভিযোগ করেছে এলাকার ভূক্তভোগী পরিবারের লোকজন। এই তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায়সহ বিভিন্ন থানায় মাদক, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা সহ ১৬ টি মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহীনির হাত থেকে রক্ষা পেতে বসত বাড়ীর চারিপাশে উন্নতমানের সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ একাধিক বেতনভূক্ত সোর্স পোষে আসছে তারা।

শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন (দেলু), আনোয়ার হোসেন ও মো. উজ্জল মিয়া ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গঙ্গানগর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে। তারা তিন ভাই’ই মাদক স¤্রাট হিসেবে এলাকায় বেশ পরিচিত। এছাড়াও তারা বিভিন্ন সংস্থার সোর্স এবং লাইনম্যান হিসেবে ব্যাপক খ্যাত।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উল্ল্যেখিত মাদক স¤্রাট তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু (৪০) র্শীষ সন্ত্রাসী হিসেবে ব্রাহ্মণপাড়া তালিকা ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও সে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের ল্যাইনম্যান হিসেবে কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। তার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া সহ দেশের বিভিন্ন থানায় ৫টি মাদকের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় ২ টি, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর থানায় ১ টি, চট্রগ্রাম রেলওয়ে থানায় ১ টি, কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় ১ টি মাদক মামলা রয়েছে। তার ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় ১ টি, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা থানায় ১ টি, চট্রগ্রাম রেলওয়ের লাকসাম রেলওয়ে থানায় ১ টি মাদকের মামলা রয়েছে। এছাড়া তার ছোট ভাই মোঃ উজ্জল মিয়া (২৬) এর বিরুদ্ধে কুমিল্লার মনোহরগজ্ঞ থানায় ১টি, ব্রাহ্মনপাড়া থানায় ৩ টি, কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানায় ১ টি, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা থানায় ২ টি সহ মোট ৭ টি মাদক মামলা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার বেশ কিছু লোক জানায়, বর্তমানে তারা তিন ভাই বেশিভাগ সময় ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকে। তারা তাদের বসত বাড়ীর চারিপাশে একাধিক সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহীনির লোকজন তাদেরকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করে। বাড়ীতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কারণে তারা আগে থেকেই টের পেয়ে আতœগোপনে চলে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহীনি ওই এলাকা থেকে ফিরে যাওয়ার পর তারা আবারো মাদক ব্যবসা সহ অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। তাদের বসত বাড়ীর সাথে একটি দোকান ঘর নির্মান করে সেখানে সার্বক্ষণিক বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ব্যবসা এবং জুয়া, মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছে। তারা আরো জানান, তাদের বাবা সালদানদী রেল ষ্টেশনে এক সময় কুলি কাজ করতো। তারা মাদক ব্যবসা করে কুলির ছেলে থেকে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছের মত এখন কোটিপতি হয়েছে। কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে ওই লোককে তারা বিভিন্ন ভাবে লাি ত করে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে। তাদের ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চায় না। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করে এলাকাবাসীকে মাদকের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান তারা।

এ ব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, তাদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের বিষয়ে থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা যত শক্তিশালী হউক না কেন, আইনের হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থকবে।