ডেস্ক রিপোর্টঃ লাকসাম সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত, অনিয়ম, দুর্নীতি ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমান সময়ে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ১৯২৩ সনে প্রতিষ্ঠিত লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় বর্তমান সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ১৩ মে সরকারী করা হয়। সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মোল্লার চাকুরীর মেয়াদ শেষ হলে সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহিম মুরাদ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে স্কুল ফান্ড থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলো। ২০১৯ সালে ৫ম শ্রেণিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রদেরকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় বিধি বহির্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ৩ মাসের বেতন নিয়েছেন। চলতি বছর জানুয়ারী ফেব্রুয়ারী মাসে স্কুলের হোষ্টেলে প্রায় ৪০জন ছাত্র ভর্তি করে ষ্টাবলিষ্টম্যান খরচ বাবদ ৬ হাজার ৫শ টাকা করে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা স্কুল ফান্ডে জমা না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

১৯’সালে এসএসসি পরীক্ষার মিলাদের জন্য সাবেক প্রধান শিক্ষক ১ লাখ ৯ হাজার ২শ টাকা রেখে যান। ঐ মিলাদের জন্য শিক্ষক সমিতি থেকে ৬২ হাজার টাকা এবং স্কুল ফান্ড থেকে ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা আত্মসাত করেন। ১৯’সালের এসএসসি পরীক্ষায় ভোকেশনাল শাখার ছাত্রদের থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি হিসেবে ১ হাজার করে এবং এটাচম্যান্ট ফি বাবদ আরো ১ হাজার করে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহিম মুরাদ।

ছাত্র ভর্তির সময় স্কাউট ফি আদায় করে নেয়া হয়। তারপরও জাম্বুরীতে যাওয়ার সময় খরচের টাকা প্রতি ছাত্র থেকে বিধি বহির্ভূতভাবে ৪ হাজার টাকা করে ৮জন ছাত্র থেকে ৩২ হাজার টাকা গ্রহন করেন এবং স্কুল ফান্ড থেকেও ৩২ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

৮ম শ্রেণির বোর্ড নির্ধারিত রেজিঃ ফি ৮৫ টাকার স্থলে ৩শ টাকা হারে গ্রহণ করে ৩৭ হাজার ৮শ ৪০ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
নবম শ্রেণির রেজিঃ ফি ১৬২ টাকার স্থলে ১৮৩জন ছাত্র থেকে ৪০০ টাকা হারে গ্রহণ করে ৪৩ হাজার ৫শ ৫৪ টাকা আত্মসাক করা হয়েছে।
নবম শ্রেণির ভোকেশনাল শাখার ছাত্রদের রেজিঃ ফি ২২০ টাকার স্থলে ৮০ জন ছাত্রের কাছ থেকে ৫০০ শ টাকা হারে গ্রহণ করে প্রায় ২২ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন। একই শাখার ফরম পূরণ বাবদ ১৮৫০ টাকা হারে গ্রহণ করে সাড়ে ৬২ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা ২০১৯এর খরচ বাবদ ২ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলন করে প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাশ (কোচিং ক্লাশ) থেকে অনৈতিক ভাবে শিক্ষকদের ঠকিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন।

এসএসসি পাশ করা ছাত্রদের কাছে প্রশংসাপত্র বিক্রি করে প্রায় ৪৯ হাজার টাকা স্কুল ক্যাশে জমা না দিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে। শিক্ষক কর্মছারীদের ফ্রপিডেন্ট ফান্ডের টাকা উর্ত্তোলনের জন্য লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দেওয়ার কথা বলে প্রতিজন থেকে ২ হাজার টাকা হারে ৫৮ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। দশম শ্রেণির ভোকেশনাল শাখা ছাত্রদের ফরম পূরণ বাবদ ১০৫০ টাকার স্থলে ২ হাজার টাকা হারে গ্রহণ করে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়।

স্কাউট ডে ক্যাম্পের জন্য প্রতি ছাত্র থেকে ১শ ৮০ টাকা হারে গ্রহণ করার পরও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্কুল ক্যাশ থেকে ১৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। ৮ম শ্রেণির ফরম বাবদ ১০০ টাকার স্থলে ৩০০ টাকা হারে গ্রহণ করে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন।

৮ম শ্রেণির মডেল টেষ্ট পরীক্ষায় ২৫০ টাকা হারে গ্রহণ করে প্রায় ৩৪ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের বিশেষ ক্লাশ কোচিং ক্লাশ বাবদ প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা হারে গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের মূল গেইটে নাম ফলক বসানোর আংশিক খরচ শিক্ষক কর্মচারী ফান্ড থেকে দেয়া হলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্কুল ফান্ড থেকে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন।

২৮ জানুয়ারী ১৯ ইং তারিখে মিলাদ বাবদ ৫০ হাজার এবং ২ ফ্রেুয়ারী ১৯ ইং তারিখে আবারো মিলাদ বাবদ ৩৪ হাজার ৫শত টাকা স্কুল ফান্ড থেকে উত্তোলন করা হয় যদিও ২ ফেব্রুয়ারী তারিখে এসএসসি পরীক্ষা চলমান ছিল। অর্ধবার্ষিক/প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষা-২০১৯ইং সনে ২০০ রিম কাগজ ক্রয় এবং প্রিন্টিং খাতে ২ লক্ষ ৯৭ হাজার ৭৫০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে যার মধ্যে অর্ধেক টাকাই ভূয়া ভাউচার করা হয়েছে।